
বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগ দিবস
এম,এ,মান্নান, স্টাফ রিপোর্টার,নিয়ামতপুর (নওগাঁ)
আজ ৩০ জুন, বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগ দিবস। বিশ্বজুড়ে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধি, তথ্যের অবাধ প্রবাহ এবং সংস্কৃতির মেলবন্ধনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের যে অসামান্য অবদান, তাকে উদযাপনের লক্ষ্যেই প্রতি বছর এই দিনটি পালন করা হয়। ২০১০ সালের এই দিনে বিখ্যাত প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ম্যাশঅ্যাবল’ (Mashable)-এর উদ্যোগে প্রথমবার দিবসটি পালিত হয়েছিল। এরপর থেকে বিশ্বব্যাপী দিবসটির জনপ্রিয়তা ও গুরুত্ব প্রতি বছরই বাড়ছে।বর্তমান বিশ্বে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কেবল বিনোদন বা বন্ধুত্বের আঙিনা নয়, বরং এটি অর্থনীতি, রাজনীতি এবং জনমতের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে।তথ্যপ্রযুক্তির অভাবনীয় অগ্রগতির ফলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এখন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ফেসবুক, এক্স (সাবেক টুইটার), ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব কিংবা লিংকডইনের মতো প্ল্যাটফর্মগুলো ভৌগোলিক দূরত্বকে সম্পূর্ণ মুছে দিয়েছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে ডিজিটাল অর্থনীতি তথা ই-কমার্স ও এফ-কমার্স (ফেসবুক কমার্স)-এর প্রসারে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে। হাজারো তরুণ ও নারী উদ্যোক্তা ঘরে বসেই নিজেদের ব্যবসা পরিচালনা করছেন, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় অবদান রাখছে। এছাড়া যেকোনো জাতীয় দুর্যোগে জনমত গঠন, তহবিল সংগ্রহ এবং তাৎক্ষণিক সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে এই মাধ্যমগুলোর কার্যকারিতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে।প্রযুক্তির এই আশীর্বাদের পাশাপাশি এর অন্ধকার দিকটি এখন সমাজবিজ্ঞানীদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদপত্রে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও গবেষণা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে কেন্দ্র করে সাইবার অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। মুহূর্তের মধ্যে মিথ্যা বা বিকৃত তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার অপচেষ্টা চলছে প্রতিনিয়ত। বিশেষ করে নারী ও তরুণেরা সাইবার বুলিং, ব্ল্যাকমেইল এবং আইডি হ্যাকিংয়ের শিকার হচ্ছেন সবচেয়ে বেশি।লাইক, কমেন্ট আর ভার্চুয়াল জনপ্রিয়তার অন্ধ দৌড় তরুণ প্রজন্মকে বিষণ্নতা, একাকীত্ব এবং খিটখিটে মেজাজের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, অতিরিক্ত ‘স্ক্রিন টাইম’ বা সোশ্যাল মিডিয়া আসক্তি তরুণদের স্বাভাবিক সামাজিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে।প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার রোধে কেবল আইন প্রয়োগ বা নিয়ন্ত্রণ যথেষ্ট নয়। এর জন্য প্রয়োজন ব্যাপক জনসচেতনতা এবং ‘ডিজিটাল লিটারেসি’ বা ডিজিটাল স্বাক্ষরতা।”সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম একটি দ্বিধারী তলোয়ার। এটি আমাদের জীবনকে যেমন সহজ করেছে, তেমনি অসচেতনভাবে ব্যবহার করলে তা বড় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই যেকোনো তথ্য শেয়ার করার আগে তার সত্যতা যাচাই করা প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব।” সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে বাদ দিয়ে আধুনিক পৃথিবীর কল্পনা করা অসম্ভব। তাই প্রযুক্তির এই শক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে। আজকের এই বিশ্ব সামাজিক যোগাযোগ দিবসের মূল আহ্বান হওয়া উচিত— ভার্চুয়াল জগতে ঘৃণা, গুজব ও কাদা ছড়াছড়ি বন্ধ করে একে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, শিক্ষা ও সুস্থ বিনোদনের একটি নিরাপদ মাধ্যম হিসেবে গড়ে তোলা। আর এর সূচনা হতে হবে আমাদের প্রত্যেকের নিজস্ব সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মধ্য দিয়ে।