
মাদারীপুরের ডাসারে বিয়ের স্বীকৃতি ও স্ত্রীকে ফিরে পাওয়ার দাবিতে মেয়ের বাড়িতে অনশনে যুবক।
উজ্জ্বল চন্দ্র মন্ডল
উপজেলা প্রতিনিধি
কালকিনি, মাদারীপুর।
মঙ্গলবার (৩১/০৩/২৬ ইং) থেকে শুরু হওয়া অনশনের খবর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। বিষয়টিকে ‘লাইলি-মজনু’ প্রেমের গল্পের সাথেও তুলনা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের আলিসাকান্দি গ্রামের মেয়ে “অনুশীলা বাড়ৈ” এর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন বিশ্বজিৎ পাত্র নামে এক যুবক। বিশ্বজিৎ একই উপজেলার বিপ্রদাশ পাত্রের ছেলে। বিশ্বজিৎ দাবি করেন, ১০ বছরের প্রেমের সম্পর্ক অনুশীলার সঙ্গে। ০৪ বছর আগে তারা আইনগতভাবে রেজিস্ট্রি করে বিবাহও করে।
সাংবাদিকদের বিশ্বজিৎ জানান, তাদের ১০ বছরের সম্পর্কে অনুশীলার নার্সিং পড়াশোনা ও ভরণপোষণ ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনে প্রায় ১৮/২০ লক্ষ টাকা খরচ করেছে। ঢাকায় দীর্ঘ সময় স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বাসা ভাড়া করেও থেকেছেন। সম্প্রতি নার্সিং শেষ করে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি পাওয়ার পর থেকেই অনুশীলা নিজ পরিবারের প্ররোচনায় দূরত্ব তৈরি করেছে বিশ্বজিৎ এর সাথে। প্রায় ১২/১৩ দিন যাবৎ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ায় নিরুপায় হয়ে বিশ্বজিৎ এই পথ বেছে নিয়েছি। সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অনশন স্থান থেকে যাবেন না বিশ্বজিৎ।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অনুশীলা বাড়ৈ জানান, “বিশ্বজিৎ এর সঙ্গে একসময় সম্পর্ক ছিল ঠিকই, কিন্তু জোর করে সই নিয়ে কোর্ট ম্যারেজ করে বিশ্বজিৎ। সপ্তাহখানেক আগে তাকে আইনগতভাবে ডিভোর্স দেয়া হয়েছে। তার সঙ্গে সংসার করা সম্ভব নয়।
স্থানীয় গ্রামবাসী ও জনপ্রতিনিধি জানান, তাদের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় সবার জানা। দুজনে প্রাপ্তবয়সেই বিয়ে করেছে। সৃষ্টমান সমস্যায় দুই পরিবারের সাথে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ তরিকুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি এবং খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত থানায় কেউ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।