
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি প্রভাতী বাংলাদেশ
ভোলার চরফ্যাশনে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে উপকূলীয় মৎস্য খাত। ঈদের লম্বা ছুটি কাটিয়ে বুকভরা আশা নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন লক্ষাধিক জেলে। কিন্তু তেলের জোগান না থাকায় গত ৫-৬ দিন ধরে দেশের অন্যতম বৃহত্তম মৎস্য কেন্দ্র ‘সামরাজ ঘাট’-এ অলস সময় পার করছেন তারা। বাজার-সওদা করে প্রস্তুতি নিলেও তেলের অভাবে ট্রলার ছাড়তে পারছেন না কেউ।
মাছ আহরণে ধস: স্থানীয় জেলে ও আড়তদারদের দাবি, ডিজেল সংকটের কারণে চরফ্যাশন ও সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণ প্রায় ৭০-৮০ শতাংশ কমে গেছে। ঘাটে প্রতিদিন শত শত মাছভর্তি ট্রলারের যে কোলাহল থাকত, সেখানে এখন নেমে এসেছে সুনসান নীরবতা। এতে জেলে থেকে শুরু করে পাইকার ও মৎস্য শ্রমিকসহ এই খাতের ওপর নির্ভরশীল কয়েক লাখ মানুষের জীবন-জীবিকা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সামনে দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা, বাড়ছে দুশ্চিন্তা: জ্বালানি সংকটের এই ধাক্কা কাটতে না কাটতেই আগামী এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে শুরু হচ্ছে টানা ৫৮ দিনের মৎস্য আহরণ নিষেধাজ্ঞা। সাগরে মাছের প্রজনন ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করতে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। জেলেরা বলছেন, তেলের অভাবে এখন আয় করতে না পারলে নিষেধাজ্ঞার দীর্ঘ সময়ে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে। পাওনাদারদের দেনা এবং মুদি দোকানের বাকি পরিশোধের চাপে অনেক জেলে এখন ট্রলার ছেড়ে দিনমজুরের কাজ খুঁজছেন।
বাস্তব চিত্র: এফভি ‘মা-বাবার দোয়া’ ট্রলারের মালিক মো. ছলাউদ্দিন আক্ষেপ করে বলেন, “সাগরে এক সপ্তাহ থাকতে অন্তত ১২০০ লিটার ডিজেল লাগে। কিন্তু মাত্র ৩০০ লিটার নিয়ে গিয়ে দুই দিনেই ফিরে আসতে হয়েছে। এখন ১৮ জন মাল্লা নিয়ে নদীর পাড়ে ট্রলার বেঁধে বসে আছি। তাদের ভরণপোষণ দিতে হিমশিম খাচ্ছি।”
চাহিদা ও সরবরাহের ফারাক: সামরাজ মৎস্য আড়ত মালিক সমবায় সমিতির সভাপতি আজ্জি পাটোয়ারি জানান, সামরাজ ঘাটে দৈনিক প্রায় ৬০ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা থাকলেও সরবরাহ নেই তার দশ ভাগের এক ভাগও। ফলে অন্তত চার হাজার জেলে পরিবার বেকার বসে আছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য: উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা জয়ন্ত কুমার অপু জানান, জ্বালানি সংকটে মাছের সরবরাহ মারাত্মকভাবে কমেছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা সহকারী কমিশনার (ভূমি) এমাদুল হোসেন বলেন, “জ্বালানি তেলের সঠিক বণ্টন ও যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”