
গ্রীষ্মের প্রচণ্ড দাবদাহে জনজীবন যখন ওষ্ঠাগত, তখন অনেকেরই বিশেষ করে শিশুদের হঠাৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়ার প্রবণতা দেখা দেয়। হুট করে এমন ঘটনায় অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে চিকিৎসকদের মতে, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি মারাত্মক কোনো সমস্যা নয়, বরং অতিরিক্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া।
কেন হয় এই সমস্যা? বিশেষজ্ঞদের মতে, তীব্র গরমে বাতাসের আর্দ্রতা কমে গিয়ে শুষ্ক হয়ে পড়ে। এর ফলে নাকের ভেতরের মিউকাস মেমব্রেন বা সূক্ষ্ম আস্তরণ শুকিয়ে ফেটে যায়। এছাড়া পানিশূন্যতার কারণে নাকের রক্তনালিগুলো দুর্বল হয়ে পড়ায় সামান্য ঘর্ষণে বা হাঁচি দিলেও রক্ত বের হতে পারে।
শিশুদের ঝুঁকি কেন বেশি? বড়দের তুলনায় শিশুরা এই সমস্যায় বেশি ভোগে। এর প্রধান কারণ তাদের নাকের ভেতরের টিস্যুগুলো অত্যন্ত কোমল ও সংবেদনশীল। এছাড়া ধুলোবালিতে খেলাধুলা, নাক খোঁচানো এবং দ্রুত ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতার কারণে তাদের এই সমস্যা বেশি দেখা দেয়।
প্রতিরোধের উপায়:
পর্যাপ্ত পানি পান: শরীর হাইড্রেটেড রাখতে প্রচুর পানি ও তরল খাবার গ্রহণ করুন।
ময়েশ্চারাইজ রাখা: নাকের ভেতরটা ভেজা রাখতে ন্যাসাল ড্রপ বা সামান্য পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সাবধানতা: নাক খোঁচানো বা খুব জোরে নাক ঝাড়া থেকে বিরত থাকুন।
রক্ত পড়লে তাৎক্ষণিক করণীয়: নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হলে ঘাবড়াবেন না। সোজা হয়ে বসে সামনের দিকে সামান্য ঝুঁকে নাকের নরম অংশ আঙুল দিয়ে চেপে ধরুন। অন্তত ১০ মিনিট এভাবে ধরে রাখুন। খেয়াল রাখবেন, মাথা পেছনের দিকে হেলিয়ে দেবেন না বা শুয়ে পড়বেন না, এতে রক্ত গলার ভেতরে চলে যেতে পারে।
কখন ডাক্তার দেখাবেন? যদি ১৫-২০ মিনিটের মধ্যেও রক্তপাত বন্ধ না হয়, শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বা বারবার এই সমস্যা দেখা দেয়, তবে দেরি না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। অনেক সময় নাকের হাড় বাঁকা বা উচ্চ রক্তচাপের কারণেও এমনটা হতে পারে।