
গর্ভাবস্থা প্রতিটি নারীর জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে মায়ের সুস্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে অনাগত সন্তানের সঠিক বৃদ্ধি ও বিকাশ। গর্ভস্থ শিশুর শারীরিক ও মানসিক গঠনের জন্য বিশেষ কিছু পুষ্টিকর খাবারের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। সাম্প্রতিক এক আলোচনায় চিকিৎসক ও গবেষক ডা. তাসনিম জারা গর্ভবতী মায়েদের টিফিন বা হালকা খাবারে কোন ৬টি খাদ্য রাখা জরুরি, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
গবেষকদের তালিকাভুক্ত প্রায় ১০০টি পুষ্টিকর খাবারের মধ্য থেকে মায়েদের জন্য সেরা কিছু খাবারের কথা তুলে ধরেন তিনি।
১. কাঠবাদাম, চিয়া সিড ও মিষ্টি কুমড়োর বীজ ডা. তাসনিম জারার মতে, এই তিনটি খাবার অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সম্পন্ন। তবে শুধু এই তিনটিই নয়, সব ধরনের বাদাম এবং বীজে গর্ভবতী মায়েদের জন্য প্রয়োজনীয় মিনারেলস থাকে।
২. চিনাবাদাম (ফলিক অ্যাসিডের উৎস) টিফিনে চিনাবাদাম রাখা বেশ উপকারী। এতে থাকা ফলিক অ্যাসিড এবং কোলিন শিশুর ব্রেন বা মস্তিষ্ক গঠনে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
৩. সূর্যমুখী বীজ (ভিটামিন বি-৬) শিশুর দেহে নতুন রক্ত কোষ তৈরিতে ভিটামিন বি-৬ প্রয়োজন, যা সূর্যমুখী বীজে প্রচুর পরিমাণে থাকে। পাশাপাশি মায়েদের শরীরে আয়রনের অভাব দূর করতে নিয়মিত শাক খাওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
৪. ভিটামিন সি যুক্ত ফল লেবু, কমলা বা আমলকীর মতো টক জাতীয় ফল আয়রন শোষণে শরীরকে সাহায্য করে। ফলে গর্ভাবস্থায় রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমে।
৫. প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন একটি করে ডিম, ডাল, মুরগির মাংস ও মাছ খাদ্যতালিকায় রাখা চাই। এটি শিশুর টিস্যু ও মাংসপেশি গঠনে প্রধান ভূমিকা পালন করে।
৬. দুগ্ধজাত খাবার ও ক্যালসিয়াম দুধ, দই এবং পনির ক্যালসিয়ামের আদর্শ উৎস। শিশুর হাড় ও দাঁত মজবুত করতে এই খাবারগুলোর বিকল্প নেই।
মায়ের সুস্থতা ও শিশুর সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য গর্ভাবস্থায় এই পুষ্টিকর খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।