
বর্তমানে শিশুদের মাঝে হাম বা মিজেলসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে সাধারণ জ্বর ভেবে অবহেলা করায় এটি শিশুর জন্য জীবনঘাতী হয়ে দাঁড়াচ্ছে। হাম নিয়ে অভিভাবকদের দুশ্চিন্তা দূর করতে এবং সঠিক সচেতনতা বৃদ্ধিতে আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।
হামের প্রধান উপসর্গ হলো প্রচণ্ড জ্বর। এর সাথে সাধারণত কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং সর্দি থাকে। জ্বরের ৩-৪ দিনের মাথায় কান বা ঘাড়ের পাশ থেকে ছোট ছোট লালচে দানা বা র্যাশ বের হতে শুরু করে, যা দ্রুত সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।
হাম কেবল একটি চর্মরোগ নয়, এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল করে দেয়। ফলে পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, কান পাকা, এমনকি অন্ধত্ব বা মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা তৈরি হতে পারে।
হামের নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই। তবে সঠিক ব্যবস্থাপনায় এটি নিরাময় সম্ভব:
জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল ব্যবহার।
পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার ও তরল পানীয় দেওয়া।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চিকিৎসকের পরামর্শে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো, যা জটিলতা ও অন্ধত্ব রোধ করে।
যদি শিশুর শ্বাসকষ্ট হয়, দ্রুত শ্বাস নেয়, খিঁচুনি দেখা দেয়, মুখে গভীর ঘা হয় কিংবা শিশু নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তবে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি করাতে হবে।
আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে সারাদেশে বড় পরিসরে হাম-রুবেলা (MR) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এই উদ্যোগের আওতায় ৬ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়া হবে। আপনার শিশু আগে টিকা নিয়ে থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে পুনরায় টিকা দেওয়া নিশ্চিত করুন।