
অনেক সময় কোনো আঘাত পাওয়া ছাড়াই হাত বা পায়ে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। আমরা অনেকেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিই না বা সাধারণ ব্যথানাশক ওষুধ খেয়ে চেপে রাখি। কিন্তু চিকিৎসকরা বলছেন, এই অবহেলা হতে পারে চরম বিপদের কারণ। হঠাত শুরু হওয়া এমন ব্যথা আসলে শরীরে রক্ত চলাচলের পথে বড় কোনো বাধার সংকেত হতে পারে।
রক্তনালিতে ব্লক ও ব্যথার সম্পর্ক আমাদের শরীরে রক্ত তরল অবস্থায় প্রবাহিত হয়। কিন্তু যদি হার্ট বা রক্তনালির ভেতরে রক্ত জমাট বেঁধে যায়, তবে তা বিপজ্জনক। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘অ্যাকিউট লিম্ব ইশকেমিয়া’। যখন হার্টের জমাট বাঁধা রক্তের কোনো টুকরো ধমনির মাধ্যমে হাত বা পায়ে গিয়ে রক্ত চলাচল পুরোপুরি বন্ধ করে দেয়, তখনই তীব্র ব্যথার সৃষ্টি হয়। ঠিক যেমন মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হলে স্ট্রোক হয়, তেমনি হাত-পায়ের ক্ষেত্রেও এটি এক ধরনের ‘অ্যাটাক’।
কেন হয় এই সমস্যা? জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের ভাস্কুলার সার্জনদের মতে, এর পেছনে বেশ কিছু কারণ থাকতে পারে: ১. ধমনিতে কোলেস্টেরল: রক্তনালির ভেতরে চর্বির আস্তরণ জমে রক্ত চলাচলের পথ সরু হয়ে গেলে সেখানে হঠাত রক্ত জমাট বাঁধতে পারে। ২. সারভাইকাল রিব: অনেক সময় ঘাড়ের কাছে একটি বাড়তি হাড় থাকে যা রক্তনালিতে চাপ দেয়। এটি মূলত নারীদের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। এর ফলে হাতের আঙুল নীল বা কালো হয়ে যেতে পারে। ৩. রক্তের ঘনত্ব: শরীরে পানির অভাব বা রক্তের উপাদানগত সমস্যার কারণে রক্ত ঘন হয়ে নালির ভেতরেই জমাট বেঁধে যেতে পারে।
লক্ষণগুলো চিনে রাখুন নিচের লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত সতর্ক হতে হবে:
হঠাৎ হাত বা পা অস্বাভাবিক ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া।
তীব্র ব্যথা অনুভূত হওয়া।
আক্রান্ত স্থান ফ্যাকাসে বা নীলচে রঙ ধারণ করা।
হাত-পায়ের শক্তি কমে যাওয়া বা নাড়াতে না পারা।
ওই নির্দিষ্ট স্থানে নাড়ির স্পন্দন খুঁজে না পাওয়া।
চিকিৎসায় অবহেলার পরিণাম সাধারণ ব্যথার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো—এটি খুব অল্প সময়ের মধ্যে ঘটে। একে চিকিৎসকরা বলেন ‘টাইম ইজ লিম্ব’। অর্থাৎ, যত সময় পার হবে, অঙ্গটি হারানোর ঝুঁকি তত বাড়বে। যদি দ্রুত রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক করা না যায়, তবে আক্রান্ত অঙ্গটি কেটে ফেলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
করণীয় আপনার বা আপনার পরিচিত কারো এমন উপসর্গ দেখা দিলে সময় নষ্ট না করে দ্রুত একজন রক্তনালি বিশেষজ্ঞ (ভাস্কুলার সার্জন) বা হৃদরোগ হাসপাতালের শরণাপন্ন হন। মনে রাখবেন, এ ধরনের সমস্যায় সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছানোই হলো অঙ্গ বাঁচানোর একমাত্র উপায়।