
লৌহজংয়ে এসিল্যান্ড অফিস ঘিরে ক্ষোভ সহকারী-চালকের অপসারণ দাবিতে সড়ক অবরোধ ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ের দুই কর্মীর বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।মঙ্গলবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভূমি অফিসের সামনে মাওয়া-লৌহজং-বালিগাঁও সড়ক অবরোধ করেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা।
এ সময় প্রায় ৩০ মিনিট যান চলাচল বন্ধ থাকায় সড়কে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়।
বিক্ষোভকারীরা এসিল্যান্ড অফিসের সহকারী (উমেদার) মো:ইমন হোসেন ও গাড়িচালক আল-আমিনের অপসারণ দাবি জানান।তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য,অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তোলা হয়।অভিযোগে বলা হয়,ইমন হোসেন এসিল্যান্ডের নাম ভাঙিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করেন।ভূমি সংক্রান্ত কাগজপত্রে নানা ত্রুটি দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্টদের দীর্ঘদিন ঘুরানোর অভিযোগ তোলেন স্থানীয়রা।এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখিয়েও অর্থ আদায়ের কথা বলা হয়।
স্থানীয়দের দাবি,স্বল্প বেতনের চাকরি করেও ইমন অল্প সময়ে বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন।তার বাড়িতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে দোতলা টিনশেড ঘর নির্মাণ এবং বহুতল ভবনের কাজ চলছে বলে অভিযোগ ওঠে।
অন্য জেলায় জমি কেনার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ বলে দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা।
অপরদিকে,গাড়িচালক আল-আমিনের বিরুদ্ধেও ঘুষ দাবি ও খাসজমি দখলের অভিযোগ উঠেছে।
বিক্ষোভকারীরা জানান,তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে এসিল্যান্ডের নাম ব্যবহার করে অর্থ দাবি করেন।এক বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগও তুলে ধরা হয়।মানববন্ধনে অরুণ মাঝি,জসীম মোড়ল,মোখলেস মিয়া ও পিয়ারা বেগমসহ ভুক্তভোগীরা বক্তব্য দেন।
তারা অভিযোগ করেন,ঘুষ ছাড়া ভূমি অফিসে কোনো কাজই সম্পন্ন হচ্ছে না।পিয়ারা বেগম জানান,নামজারি করতে গিয়ে তার কাছে ২০ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়েছে।বিক্ষোভকারীরা অভিযুক্তদের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে অপসারণের আল্টিমেটাম দেন।নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা না নিলে এসিল্যান্ড অফিস ঘেরাওয়ের ঘোষণা দেন তারা।তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমন হোসেন।
তিনি দাবি করেন,তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ ভিত্তিহীন এবং তার সম্পদ পারিবারিক সহায়তায় গড়ে উঠেছে।অন্যদিকে আল-আমিনও অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।তার ভাষ্য, অনৈতিক দাবি না মানায় একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বাসিত সাত্তার জানান,অভিযোগগুলোর বেশিরভাগই তার যোগদানের আগের।বর্তমান অভিযোগ সম্পর্কে তিনি অবগত নন বলেও উল্লেখ করেন।
তবে বিষয়টি তদন্ত করা হবে কি না সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট করে কিছু জানাননি।