
চুল পড়া বর্তমানে এক বৈশ্বিক সমস্যা। বাজার চলতি হাজারো তেলের ভিড়ে কার্যকরী সমাধান খোঁজা দুষ্কর। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ফিনাস্টারাইড এমন একটি নাম, যা চুল পড়া বন্ধে বিশ্বজুড়ে স্বীকৃত। এটি কেবল প্রসাধনী নয়, বরং একটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ওষুধ।
পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন থেকে তৈরি হয় ডিএইচটি (DHT)। এই ডিএইচটি চুলের গোড়া বা ফলিকলকে সংকুচিত করে দেয়, ফলে চুল পাতলা হয়ে ঝরে যায়। ফিনাস্টারাইড মূলত শরীরে ‘৫-আলফা-রিডাক্টেজ’ এনজাইমকে বাধা দেয়। ফলে ডিএইচটি-র মাত্রা প্রায় ৭০% পর্যন্ত কমে আসে এবং চুলের অকাল মৃত্যু রোধ হয়।
চিকিৎসকরা সাধারণত দুটি ভিন্ন প্রয়োজনে এই ওষুধটি দিয়ে থাকেন:
১ মি.গ্রা.: নিয়মিত চুল পড়া রোধ এবং নতুন চুল গজানোর জন্য।
৫ মি.গ্রা.: মূলত প্রোস্টেট গ্রন্থির জটিলতা বা প্রস্রাবের সমস্যা সমাধানের জন্য।
গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে এই ওষুধটি বেশ কার্যকর। ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল অনুযায়ী, টানা ৫ বছর ব্যবহারের ফলে প্রায় ৮৫% পুরুষের চুলের অবস্থার উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে মাথার তালুর উপরের অংশে এটি দারুণ কাজ করে।
সব ওষুধের মতো এরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। প্রায় ২-৪% ব্যবহারকারীর ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে, যেমন:
শারীরিক মিলনের আকাঙ্ক্ষা বা লিবিডো কমে যাওয়া।
শারীরিক সক্ষমতায় সামান্য পরিবর্তন।
ত্বকে হালকা র্যাশ বা অ্যালার্জি।
বিশেষ সতর্কবার্তা: গর্ভবতী নারীদের জন্য এই ওষুধ বা এর স্পর্শ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এটি কোনো জাদুকরী দাওয়াই নয়, তাই অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সেবন করা উচিত নয়।