
অপরিচ্ছন্নতায় ঢেকে যাচ্ছে ফেনীর প্রাণকেন্দ্র: রাজাঝির দিঘীর পাড়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির শঙ্কা
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
প্রতিদিন শত মানুষের পদচারণা, অথচ চারদিকে ময়লার স্তূপ—পৌর প্রশাসনের উদাসীনতায় ক্ষোভ স্থানীয়দের
ফেনী শহরের অন্যতম পরিচিত ও জনবহুল স্থান রাজাঝির দিঘীর পাড়—যেখানে প্রতিদিন ভোরবেলায় স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ হাঁটতে বের হন সুস্থ জীবনের আশায়। কিন্তু সেই প্রত্যাশার পরিবেশ আজ যেন হারিয়ে গেছে অব্যবস্থাপনা আর অপরিচ্ছন্নতার স্তূপে।
সকালের নির্মল বাতাসে হাঁটার পরিবর্তে দর্শনার্থীদের এখন মোকাবিলা করতে হচ্ছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনার সাথে। দিঘীর পাড়জুড়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় ব্যবহৃত চায়ের কাপ, চিপসের খালি প্যাকেট, সিগারেটের খোসা—যা পুরো এলাকাটিকে একপ্রকার ময়লার ভাগাড়ে পরিণত করেছে। এতে করে শুধু পরিবেশের সৌন্দর্যই নষ্ট হচ্ছে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে বড় ধরনের ঝুঁকি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনসমাগমস্থল নিয়মিত পরিষ্কার রাখার কথা থাকলেও বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যায় না। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ এখানে হাঁটাচলা, ব্যায়াম এবং অবসর সময় কাটাতে আসেন। অথচ তাদের জন্য একটি পরিষ্কার ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এ প্রসঙ্গে অনেকেই ফেনী পৌরসভা-এর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম না থাকায় এই অবস্থা দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
একজন নিয়মিত পথচারী জানান, “আমরা প্রতিদিন এখানে হাঁটতে আসি সুস্থ থাকার জন্য। কিন্তু এখন ময়লা-আবর্জনার কারণে হাঁটাই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিবেশে কীভাবে সুস্থ থাকা সম্ভব?”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উন্মুক্ত স্থানে অপরিচ্ছন্নতা দীর্ঘমেয়াদে বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় জমে থাকা ময়লা থেকে জীবাণু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
সচেতন মহল মনে করছে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই গুরুত্বপূর্ণ স্থানটি তার সৌন্দর্য ও গুরুত্ব হারাতে পারে। তারা নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ফেনীর মানুষ একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য পরিবেশ প্রত্যাশা করে। এখন দেখার বিষয়, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এই সমস্যা সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করে।