
রাজশাহীর আম বাগানে গুটি, ভালো ফলনের প্রত্যাশা চাষিদের
অপু দাস | ব্যুরো প্রধান | রাজশাহী | ১২ এপ্রিল ২০২৬
রাজশাহীর বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা আম বাগানগুলোতে এখন প্রাণের ছোঁয়া। অল্প কিছুদিন আগেও যেসব গাছ মুকুলে ভরে ছিল, সেগুলো এখন থোকায় থোকায় আমের গুটিতে পরিপূর্ণ। ডালের পর ডাল জুড়ে ছোট ছোট সবুজ গুটি ঝুলে আছে, যা দেখে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাগান মালিক ও চাষিরা। মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে পুরো অঞ্চলে এক ধরনের উৎসবের আবহ তৈরি হয়েছে।
কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরে আমের মুকুল আসার হার ছিল সন্তোষজনক। মৌসুমের শুরুতে অনুকূল আবহাওয়া থাকায় মুকুল থেকে গুটি হওয়ার প্রক্রিয়াও ভালো হয়েছে। চৈত্রের তাপমাত্রা এবং বৈশাখের শুরুর পরিবেশ আমের গুটি বৃদ্ধির জন্য সহায়ক ভূমিকা রাখছে। ফলে বর্তমানে বাগানগুলোতে গুটি থেকে শুরু করে মার্বেল আকারের আম দেখা যাচ্ছে, যা সম্ভাব্য ভালো ফলনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
রাজশাহীর বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা গেছে, চাষিরা এখন গাছের নিবিড় পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। গুটি ঝরে পড়া ঠেকাতে নিয়মিত সেচ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি রোগবালাই প্রতিরোধে কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করা হচ্ছে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী। গাছের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের যত্নই নিচ্ছেন তারা।
স্থানীয় এক বাগান মালিক বলেন, এ বছর গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল এবং বর্তমানে গুটির অবস্থাও বেশ ভালো। যদি মৌসুমের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বড় ধরনের ঝড় বা শিলাবৃষ্টি না হয়, তাহলে ফলন গত কয়েক বছরের তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আবহাওয়ার ওপরই এখন অনেকটা নির্ভর করছে চূড়ান্ত ফলন।
সময়সূচি মেনে বাজারে আসবে বিভিন্ন জাতের আম
নিরাপদ ও পরিপক্ক আম নিশ্চিত করতে প্রতি বছরের মতো এবারও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আম সংগ্রহের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। সাধারণত মে মাসের মাঝামাঝি থেকে মৌসুম শুরু হয় এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাজারে আসে।
গোপালভোগ জাতের আম মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহে সংগ্রহ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর জুনের প্রথম সপ্তাহে হিমসাগর ও ল্যাংড়া বাজারে আসবে। জুনের মাঝামাঝি সময়ে আম্রপালি ও ফজলি পাওয়া যাবে। মৌসুমের শেষ দিকে, জুলাইয়ের শুরুতে আশ্বিনা জাতের আম সংগ্রহ করা হয়। এই নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ করলে ফলের স্বাদ ও মান বজায় থাকে।
চলতি মৌসুমে রাজশাহী জেলায় প্রায় ১৯ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে আম চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে প্রায় ২ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টনের বেশি আম উৎপাদন সম্ভব। অনেক বাগান মালিক ইতোমধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার শুরু করেছেন, বিশেষ করে ব্যাগিং পদ্ধতির মাধ্যমে আমের গুণগত মান বাড়ানো এবং রপ্তানির উপযোগী করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে আর বেশি দিন অপেক্ষা করতে হবে না। মে মাসের মাঝামাঝি থেকেই বাজারে আসতে শুরু করবে রাজশাহীর সুস্বাদু আম। তখন দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়বে এই অঞ্চলের বিখ্যাত আমের স্বাদ ও ঘ্রাণ, আর শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত আমের মৌসুম।