
লৌহজংয়ে বর্ণাঢ্য আয়োজনে নববর্ষ বরণ শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক উৎসবে জনস্রোত
আবু বকর সিদ্দিক:- মুন্সীগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
ঐতিহ্য,সংস্কৃতি ও উৎসবের রঙে রাঙানো পরিবেশে মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে উদযাপিত হলো বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩।মঙ্গলবার দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য আয়োজনে মুখর ছিল পুরো উপজেলা।উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সকাল সাড়ে ৯টায় শুরু হয় মূল কর্মসূচি।লৌহজং বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় বর্ণিল শোভাযাত্রা।শোভাযাত্রায় অংশ নেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।ব্যানার,ফেস্টুন ও মুখোশে সেজে ওঠে আনন্দঘন মিছিলটি।স্থানীয় মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
শোভাযাত্রাটি লৌহজং পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে সাময়িক বিরতি নেয়।সেখানে অংশগ্রহণকারীদের তরমুজ ও চিড়ামুড়ির মোয়া দিয়ে আপ্যায়ন করা হয়।পরবর্তীতে পুনরায় যাত্রা শুরু করে উপজেলা পরিষদ মাঠে গিয়ে শেষ হয় শোভাযাত্রা।শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা ববি মিতু।পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুরু হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
স্থানীয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মুগ্ধ হন উপস্থিত দর্শকরা।
শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের জন্য আয়োজন করা হয় পান্তা ভাতের।পান্তার সঙ্গে পরিবেশন করা হয় আলুভর্তা,শুকনো মরিচ,ডালের বড়া ও মাছভাজা।
গ্রামীণ ঐতিহ্যের এ আয়োজন সবার মাঝে বাড়তি আনন্দ ছড়িয়ে দেয়।এছাড়া এতিমখানা ও হাসপাতালে রোগীদের মাঝেও বিতরণ করা হয় খাবার।খৈ,মুড়িমুড়কি ও বাতাসা পেয়ে হাসি ফুটে ওঠে তাদের মুখে।মানবিক এই উদ্যোগ প্রশংসা কুড়িয়েছে সর্বমহলে।অন্যদিকে সরকারি লৌহজং কলেজেও ছিল ব্যাপক আয়োজন।
সকালেই কলেজ প্রাঙ্গণ থেকে বের হয় আরেকটি শোভাযাত্রা।ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সহিদুর রহমান শিকদারের নেতৃত্বে তা অনুষ্ঠিত হয়।শোভাযাত্রাটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় কলেজে ফিরে আসে।কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ।নববর্ষের আনন্দে মেতে ওঠে সব শ্রেণি-পেশার মানুষ।