
দিলীপ কুমার দাশ, স্টাফ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ
শান্তিগঞ্জে প্রভাবশালী কর্তৃক এক নিরীহ পরিবারের উপর হামলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ সাপেরকোনা গ্রামে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকালে শান্তিগঞ্জ প্রেসক্লাব কার্যালয়ে হামলার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেন পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের ঠাকুরভোগ সাপেরকোনা গ্রামের তাজু রহমান ও তার ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে তাজু রহমান তার লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিবাদীগণ আমার প্রতিবেশী হয়। বিবাদীদের সহিত আমার বিভিন্ন বিষয়াদি নিয়া বিরুধ চলিয়া আসিতেছে। উক্ত বিরুধের জের ধরিয়া বিবাদীগণ বিভিন্ন সময়ে আমার ও আমার পরিবারে লোকজনের জান মালের ক্ষতি সাধনের চেষ্টায় লিপ্ত রহিয়াছে। গত ২১/০৩/২০২৬ইং তারিখ বিবাদীগণ আমার ভাতিজা হাফিজ রেজুয়ান আহমদকে মারপিট করিয়া রক্তাক্ত জখম করে। উক্ত বিষয়ে আমার ভাই মুজিবুর রহমান বিজ্ঞ আদালতে সি.আর মামলা দায়ের করেন, যাহা শান্তিগঞ্জ থানায় তদন্তাধীন রহিয়াছে।
তিনি আরও বলেন, উক্ত মামলা দায়ের করার পর হইতে বিবাদীগণ আমার ও আমার পরিবারে লোকজনকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ সহ বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও মারপিটের হুমকি প্রদর্শন করিয়া আসিতেছে। এরি সূত্র ধরে শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল অনুমানিক সাড়ে ৫.০০ ঘটিকার সময় আমার একই গ্রামের বিবাদীগণ—আফাজ উদ্দিন (৪৫), আবু তালহা (২২), রাজ্জাক হোসেন (১৮), গিয়াস উদ্দিন (৬০), সোনাই মিয়া (৩৫), নজরুল হক (২১), ছয়দুল হক (২৫), মহিবুর (২২), সেলিম মিয়া (২৫)সহ সবাই মিলিত হইয়া দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র দা, রামদা, লোহার রড ও লাঠি-শোঠা দিয়ে আমাদের উপর অতর্কিত হামলা করে।
হামলাকারীরা আমাকে লাঠি ও লোহার রড দ্বারা এলোপাতারি মেরে আমার শরীরে বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। আমাকে বাঁচাতে আমার ভাইয়ের বউ এগিয়ে আসলে তাকে দা দ্বারা প্রাণে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথা বরাবর কুপ মারে। এসময় সে সড়ে গেলে দা-এর কোপ তার ডান পায়ের গোড়ালিতে পড়ে মারাত্মক কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। তাদের এলোপাতারি হামলায় আমাদের শোর-চিৎকার শুনিয়া আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এসে আমাদেরকে হামলাকারীদের হাত হইতে প্রাণে রক্ষা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, মারধর ও হামলার সময় তারা আমার টিনের ঘরের বেড়া ও চাল ভেঙে আনুমানিক ২০,০০০/- টাকার ক্ষতি সাধন করে। আমাদের পরিবারের ১২ বছরের এক কিশোরীসহ ৪ জন আহত হয় এবং শান্তিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা গ্রহণ করি।
কিন্তু বর্তমানে বিবাদীদের এহেন ভয়ভীতি ও হুমকি এবং আক্রমনাত্বক মনোভাবের ফলে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগিতেছি। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তাজু রহমানের স্ত্রী আয়েশা বেগম, তার মেয়ে মাসুমা আক্তার এবং হামলার ঘটনায় আহত রুখশানা বেগমের ছেলে রেদোয়ান আহমদ। এ বিষয়ে প্রতিপক্ষের বক্তব্য নিতে চাইলে গিয়াস উদ্দিনের ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে শান্তিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: ওলি উল্লাহ বলেন, “বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”