
ফেনীতে ৩টি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠান সিলগালা
মানদণ্ড পূরণে ব্যর্থতায় কঠোর পদক্ষেপ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
নিয়মিত মনিটরিংয়ে অনিয়ম ধরা পড়ায় অভিযান; জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় আপসহীন অবস্থান সিভিল সার্জনের
ফেনী, ২২ এপ্রিল ২০২৬:
ফেনী জেলার স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে কঠোর অবস্থান নিয়েছে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। আজ (২২ এপ্রিল) নিয়মিত মনিটরিং ও সুপারভিশন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে শহরের তিনটি বেসরকারি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানকে সিলগালা করা হয়েছে।
ফেনীর মান্যবর সিভিল সার্জন ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিমের নির্দেশনায় সিভিল সার্জন কার্যালয়ের বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক পরিদর্শন টিম এই অভিযান পরিচালনা করে।
পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সেবার মান, লাইসেন্সিং, যন্ত্রপাতির ব্যবহার, জনবল কাঠামো এবং সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়। কিন্তু সরকার নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হওয়ায় “আমিন মেডিকেল সেন্টার”, “সোনালী ডায়াগনস্টিক সেন্টার” এবং “আলো ডিজিটাল চক্ষু হাসপাতাল”-এর কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয় এবং প্রতিষ্ঠানগুলো সিলগালা করা হয়।
অভিযান পরিচালনাকারী টিমে উপস্থিত ছিলেন ফেনী সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এএসএম সোহরাব আল হোসাইন, সিভিল সার্জন কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার ডা. আমির খসরু তারেক, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুজিবুর রহমান এবং সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মাইনউদ্দিন। তাদের সমন্বিত তৎপরতায় অভিযানটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিভিন্ন অনিয়ম, মানহীন সেবা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় নীতিমালা অনুসরণে ঘাটতি পাওয়া গেছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফেনীর জনগণ যাতে সুষ্ঠু, নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে, সে লক্ষ্যে নিয়মিত অভিযান ও তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কোনো প্রতিষ্ঠানই নিয়মের বাইরে গিয়ে সেবা প্রদান করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের এই উদ্যোগকে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তারা আশা করছেন, এ ধরনের কার্যক্রমের ফলে ফেনীতে স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে এবং সাধারণ মানুষ প্রতারিত হওয়ার ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবে।