
জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন: “পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য আয়োজন
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
ফেনীতে র্যালি, পুষ্টি মেলা ও আলোচনা সভায় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের সম্মিলিত অঙ্গীকার—পুষ্টিসমৃদ্ধ জাতি গঠনে জোরালো উদ্যোগ
“পুষ্টি বৈষম্যের দিন শেষ, গড়বো স্বনির্ভর বাংলাদেশ”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ২৩ এপ্রিল জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহের উদ্বোধন উপলক্ষে ফেনী জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। কর্মসূচির মধ্যে ছিল আকর্ষণীয় র্যালি, পুষ্টি মেলা এবং সচেতনতামূলক আলোচনা সভা, যা অংশগ্রহণকারীদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফেনী জেলার সম্মানিত সিভিল সার্জন ও তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোহাম্মদ রুবাইয়াত বিন করিম। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম জাতি গঠনের পূর্বশর্ত হলো সুষম পুষ্টি নিশ্চিত করা। পুষ্টি বৈষম্য দূর করতে হলে সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলার পুলিশ সুপার জনাব শফিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন) ফাহমিদা হক। তারা তাদের বক্তব্যে পুষ্টি সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রশাসনের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, জেলা তথ্য কর্মকর্তা, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালকের প্রতিনিধি, বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা, জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান ও প্রতিনিধিবৃন্দ, স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা।
উদ্বোধনী র্যালিটি সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় একই স্থানে এসে শেষ হয়। র্যালিতে অংশগ্রহণকারীরা পুষ্টি বিষয়ক বিভিন্ন বার্তা সম্বলিত ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বহন করেন, যা সাধারণ মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
পুষ্টি মেলায় বিভিন্ন স্টলে স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাস, শিশু ও মাতৃ পুষ্টি, খাদ্য বৈচিত্র্য, নিরাপদ খাদ্য গ্রহণ এবং অপুষ্টি প্রতিরোধ বিষয়ে তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করা হয়। বিশেষজ্ঞরা দর্শনার্থীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে পুষ্টি বিষয়ে তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, অপুষ্টি শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়, এটি একটি সামাজিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ। তাই এ সমস্যা মোকাবেলায় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং জনগণের সমন্বিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
অনুষ্ঠানের সমাপনীতে একটি স্বাস্থ্যসম্মত, পুষ্টিসমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ উপলক্ষে আগামী দিনগুলোতেও জেলার বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।