
নতুন জীবনের পথে পা বাড়াতে যাচ্ছেন? বিয়ের পিঁড়িতে বসার আগে কেনাকাটা বা উৎসবের প্রস্তুতির ভিড়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি অনেকে এড়িয়ে যান, তা হলো স্বাস্থ্য সচেতনতা। সুস্থ ও সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য বিয়ের আগেই কিছু মেডিকেল টেস্ট করিয়ে নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। কারণ অনেক রোগ বাইরে থেকে বোঝা যায় না, কিন্তু বিয়ের পর তা স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে বা অনাগত সন্তানের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। সচেতনতা অবলম্বন করলে অনেক বড় ঝুঁকি থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
জনপ্রিয় চিকিৎসক ডা. তাসনিম জারার পরামর্শ অনুযায়ী, হবু দম্পতিদের জন্য যে ৬টি পরীক্ষা করানো অপরিহার্য, তা নিচে আলোচনা করা হলো:
১. থ্যালাসেমিয়া পরীক্ষা: থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রোগ যা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য। অনেক সময় স্বামী-স্ত্রী উভয়ের থ্যালাসেমিয়া মাইনর থাকলে সন্তানের থ্যালাসেমিয়া হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অথচ তারা নিজেরা সম্পূর্ণ সুস্থ থাকেন এবং নিজেরা বাহক কি না, তা জানেনই না। রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই ঝুঁকি আগেই জেনে নেওয়া সম্ভব। এটি সচেতনতা বাড়াতে এবং সুস্থ সন্তান জন্মদানে বড় ভূমিকা রাখে।
২. হেপাটাইটিস বি পরীক্ষা: লিভারের গুরুতর সমস্যা বা ক্যানসারের অন্যতম কারণ হেপাটাইটিস বি ভাইরাস। অনেক আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের অজান্তেই এই ভাইরাস বহন করেন এবং অনিচ্ছাকৃতভাবে সঙ্গীর শরীরে এটি ছড়িয়ে দিতে পারেন। বিয়ের আগেই এই টেস্টটি করে নেওয়া নিরাপদ।
৩. হেপাটাইটিস সি পরীক্ষা: এই ভাইরাসটিও লিভারের জন্য ভয়াবহ। সাধারণত রক্তের মাধ্যমে এটি ছড়ায়। এর লক্ষণ অনেক দেরিতে প্রকাশ পায়, তাই বিয়ের আগে এই ভাইরাসটির উপস্থিতি পরীক্ষা করা বুদ্ধিমানের কাজ। পজিটিভ ফলাফল আসলে চিকিৎসকের পরামর্শে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা সম্ভব।
৪. এইচআইভি (HIV) পরীক্ষা: এইচআইভি নিয়ে সামাজিক ট্যাবু থাকলেও এটি একটি মেডিকেল ইস্যু। সঙ্গীর সাথে নিরাপদ জীবনযাপন এবং নিজের সুরক্ষার জন্য বিয়ের আগে এই টেস্টটি করা অত্যন্ত জরুরি। সঠিক চিকিৎসায় ভাইরাসের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
৫. যৌনবাহিত রোগ (STI) পরীক্ষা: সিফিলিস, গনোরিয়া বা ক্লামিডিয়ার মতো যৌনবাহিত রোগ অনেক ক্ষেত্রে লক্ষণ ছাড়াই শরীরে বাসা বাঁধে। এগুলো থেকে ভবিষ্যতে সন্তানধারণে জটিলতা তৈরি হতে পারে। সময়মতো এন্টিবায়োটিক কোর্স করলে এসব রোগ সহজেই নির্মূল করা সম্ভব। তাই টেস্ট করানো জরুরি।
৬. রক্তের গ্রুপ: স্বামী-স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ একই হলে সমস্যা হবে—এটি একটি প্রচলিত ভুল ধারণা। তবে স্ত্রীর রক্তের গ্রুপ নেগেটিভ হলে এবং সন্তানের পজিটিভ হলে গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের বিশেষ কিছু পরামর্শের প্রয়োজন হয়। তাই রক্তের গ্রুপ জেনে রাখা বিপদের সময় রক্তদান বা গ্রহণের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
শেষ কথা: কোনো একটি টেস্টে রোগ ধরা পড়লেই যে বিয়ে ভেঙে দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানে অনেক সমস্যারই সমাধান রয়েছে। মূলত সচেতনতা এবং সঠিক চিকিৎসা গ্রহণের মাধ্যমেই একটি সুন্দর ও নিরাপদ দাম্পত্য জীবন গড়ে তোলা সম্ভব।