
সাতক্ষীরার কলারোয়া সীমান্ত দিয়ে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাচালান ও মানব পাচারকারী চক্র। দীর্ঘদিন ধরে ইছামতি ও সোনাই নদীর দুর্গম পথ এবং বিভিন্ন সীমান্ত রুট ব্যবহার করে মাদক, স্বর্ণ, রূপা ও পাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্য ভারতে পাচার করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে পাসপোর্টবিহীন অবৈধ পারাপারের হার বেড়ে যাওয়ায় সীমান্তে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সীমান্তবর্তী বিভিন্ন সূত্র ও বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, কলারোয়ার সুলতানপুর, হিজলদী, কেঁড়াগাছি, চন্দনপুর এবং গাড়ালবাড়ি সংলগ্ন এলাকাগুলো চোরাকারবারিদের প্রধান করিডোর হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে এই চক্রগুলো সক্রিয় হয়ে ওঠে। সম্প্রতি বিজিবি কলারোয়ার মাদরা ও তেতুলবাড়িয়া এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় নাগরিকসহ বিপুল পরিমাণ মাদক ও রূপা জব্দ করেছে, যা সীমান্ত পরিস্থিতির নাজুকতাকেই তুলে ধরে।
শুধুমাত্র পণ্য চোরাচালান নয়, এই এলাকাটি মানব পাচারেরও নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহার করছে একটি সক্রিয় চক্র। নারী ও শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে ভারতে পাচারের সময় বেশ কিছু ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়েছে স্থানীয়দের মাঝে। এ বিষয়ে স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সীমান্ত সুরক্ষায় তারা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছেন। চোরাচালান রোধে নিয়মিত টহল বাড়ানোর পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বৃদ্ধি করা হয়েছে। আইন অমান্যকারী কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।