
সোনাগাজীতে তীব্র লোডশেডিং: অটোরিকশা চার্জেই যাচ্ছে বরাদ্দের ২৫% বিদ্যুৎ
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি।
বিদ্যুৎ ঘাটতিতে নাকাল জনজীবন, নিয়ন্ত্রণহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বাড়াচ্ছে সংকট—নীতিমালা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের দাবি
দেশজুড়ে চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলাতেও। লোডশেডিংয়ের কবলে পড়ে জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, ঠিক সেই সময়েই ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চার্জ দিতে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, উপজেলায় বরাদ্দকৃত মোট বিদ্যুতের প্রায় ২৫ শতাংশই খরচ হচ্ছে শুধু অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দিতে।
তথ্য অনুযায়ী, সোনাগাজীতে প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচল করছে। যদিও প্রশাসনের কাছে এর সুনির্দিষ্ট কোনো পরিসংখ্যান নেই। পৌর কর্তৃপক্ষ প্রায় এক হাজার অটোরিকশাকে লাইসেন্স দিলেও বাস্তবে এর সংখ্যা কয়েকগুণ বেশি। অভিযোগ রয়েছে, অটোরিকশা বৈধ না হলেও লাইসেন্সের নামে অর্থ আদায় করে একটি অনানুষ্ঠানিক বৈধতার চর্চা চালু রয়েছে।
পল্লী বিদ্যুৎ সূত্র জানায়, প্রতিটি অটোরিকশায় সাধারণত ৪ থেকে ৬টি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি ব্যবহার করা হয়। এগুলো চার্জ দিতে প্রতিদিন গড়ে ৫ থেকে ৭ ঘণ্টা সময় লাগে এবং এতে ৬ থেকে ৮ ইউনিট বিদ্যুৎ খরচ হয়। ফলে শুধু অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জেই প্রতিদিন ২ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে, যা মোট বরাদ্দের একটি বড় অংশ।
উপজেলায় প্রায় ৫৯ হাজার গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা ১৭ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ মিলছে মাত্র ৮ থেকে ৯ মেগাওয়াট। এই ঘাটতির মধ্যে অটোরিকশার বাড়তি চাপ লোডশেডিংকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দিনে-রাতে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।
স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। এক স্কুল শিক্ষক বলেন, “যদি বরাদ্দের এক-চতুর্থাংশ বিদ্যুৎ অটোরিকশার পেছনে খরচ হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমবে কীভাবে?” তিনি দ্রুত নীতিমালা প্রণয়ন এবং প্রয়োজনের অতিরিক্ত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান।
অন্যদিকে, অটোরিকশা চালকদের দাবি—বেকারত্বই তাদের এই পেশায় আসতে বাধ্য করেছে। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকলে অটোরিকশার সংখ্যা কমানো সম্ভব নয় বলেও তারা মনে করেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বলছেন, একদিকে বিদ্যুতের অপচয়, অন্যদিকে সড়কে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ঘটনা—সব মিলিয়ে অটোরিকশা এখন একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক ও প্রশিক্ষণবিহীন হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পৌর এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি অটোরিকশা চলাচলে অনুমতি দেওয়া হবে না বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে মানবিক দিক বিবেচনায় প্রশাসনকে ভারসাম্য রক্ষা করতেও হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বিকল্প কর্মসংস্থান তৈরি এবং সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। অন্যথায়, লোডশেডিং ও জনভোগান্তি আরও বাড়বে।