
নাগেশ্বরীতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনা: একই পরিবারের দুইজনসহ নিহত ৪, আহত অন্তত ১০।
আব্দুল ওয়াহাব, স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম।
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে গভীর রাতে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের দুই সদস্যসহ মোট চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ১০ জন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে নাগেশ্বরী পৌরসভার বাঁশের তল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। জানা যায়, রংপুরে চিকিৎসা শেষে একটি মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন যাত্রীরা। পথে সোনাহাট স্থলবন্দর এলাকা থেকে ছেড়ে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষটি এতটাই ভয়াবহ ছিল যে ঘটনাস্থলেই দুজন নিহত হন।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে নাগেশ্বরী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে সেখানে আরও একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহতদের রংপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেওয়ার পথে আরও একজন মারা যান।
নিহতরা হলেন—ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুড়ি ইউনিয়নের উত্তর তিলাই গ্রামের আসাদমোড় এলাকার শামীম হোসেন (৩২) ও তার মেয়ে মোছা. ছাদিয়া (৮), একই এলাকার মো. নুরনবী (২৮) এবং দক্ষিণ ধলডাঙ্গা গ্রামের ঝালবাজার এলাকার মাইক্রোবাস চালক মো. লিমন (৩০)।
বুধবার সকালে নিহতদের মরদেহ গ্রামে পৌঁছালে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকা ভারী হয়ে ওঠে।
আহতদের মধ্যে ইউসুফ আলী বাবু (৪০), তাইমুন নাহার (৩৮), হামিদুল ইসলাম (২৪), জবা (৪০), মুন (৮), শান্তা (২০), মনির হোসেন (৪০), শিউলী বেগম (৩৫), সিফাত (১২) ও ছামির আলী (৬৫) বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শিলখুড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান আসাদ ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিম উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাটি নাগেশ্বরী থানার অধীন হওয়ায় আইনগত ব্যবস্থা সেখান থেকেই নেওয়া হচ্ছে। নাগেশ্বরী থানার ওসি আব্দুল্লাহ হিল জামান জানিয়েছেন, সর্বশেষ পাওয়া তথ্যে মৃতের সংখ্যা চারজন এবং বিষয়টি নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এ দুর্ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে, আর স্বজন হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়েছে একাধিক পরিবার।