টাঙ্গাইলের ভূয়াপুর উপজেলায় তামাক চাষ করে এখন সর্বনাশের মুখে পড়েছেন শতাধিক কৃষক। বিভিন্ন তামাক কোম্পানির প্রলোভনে পড়ে ধান-পাট ছেড়ে তামাক চাষ করেছিলেন তারা। কিন্তু ফসল ঘরে তোলার সময় কোম্পানিগুলো তামাক কিনতে অস্বীকার করায় এখন মাথায় হাত পড়েছে কৃষকদের। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে ফসল ফলানো কৃষকরা এখন ন্যায্য দামে তামাক বিক্রির জন্য সরকারের হস্তক্ষেপ কামন করছেন।সরেজমিনে ভূয়াপুরের বেশ কয়েকটি ইউনিয়নের মাঠে গিয়ে দেখা যায়, কয়েক একর জমিতে পেকে থাকা তামাক ক্ষেতেই শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকরা বাধ্য হয়ে তামাক পাতা বাড়ির উঠানে স্তূপ করে রেখেছেন। কিন্তু ক্রেতা নেই, দাম নেই।কোম্পানি এখন ফোনও ধরে না
ভূয়াপুরের কৃষক রহিম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, কোম্পানির লোকেরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বলেছে, তামাক চাষ করো। বীজ, সার, কীটনাশক সব তারা দেবে। ফসল হলে ন্যায্য দামে কিনে নেবে। সেই কথা শুনে আমি ৩ বিঘা জমিতে তামাক চাষ করেছি। ২ লাখ টাকা ঋণ নিয়েছি এনজিও থেকে। এখন ফসল পেকে গেছে, কিন্তু কোম্পানির লোকজন ফোনই ধরে না। বাজারে তামাকের দাম নেই। আমরা এখন কী করবো?আরেক কৃষক নয়ন বলেন,ধান চাষে যে লাভ হতো, তার চেয়ে বেশি লাভের আশায় তামাক চাষ করেছিলাম। এখন দেখি লাভ তো দূরের কথা, মূলধনই উঠবে না। ব্যাংকের কিস্তি কীভাবে দেবো? ছেলেমেয়ের স্কুলের খরচ কীভাবে চালাবো?
কৃষকরা তিন দফা দাবি জানিয়েছেন।
১. সরকারকে অবিলম্বে কৃষকদের কাছ থেকে ন্যায্য দামে তামাক ক্রয় করতে হবে।
২. তামাক কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. ভবিষ্যতে কৃষকদের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে তামাক চাষে সরকারি নীতিমালা ও তদারকি জোরদার করতে হবে।
কৃষি কর্মকর্তা যা বললেন:ভূয়াপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, আমরা বিষয়টি জেনেছি। তামাক চাষ নিরুৎসাহিত করার জন্য সরকারের নীতিমালা রয়েছে। কারণ তামাক চাষে জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে যেসব কৃষক ইতোমধ্যে তামাক চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের জন্য বিকল্প ফসলের পরামর্শ ও সহযোগিতার ব্যবস্থা করা হবে।বিশেষজ্ঞদের মত: কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তামাক কোম্পানিগুলো লাভের আশায় কৃষকদের তামাক চাষে উদ্বুদ্ধ করে। কিন্তু বাজারে চাহিদা কমে যাওয়া বা আমদানি করা তামাক সস্তা হওয়ার কারণে তারা স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে তামাক কেনা বন্ধ করে দেয়। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রান্তিক কৃষকরা।ভূয়াপুরের এই দৃশ্য শুধু টাঙ্গাইলের নয়, সারা দেশের চিত্র। একদিকে সরকার তামাকের ব্যবহার কমাতে স্বাস্থ্য সতর্কতা দিচ্ছে, অন্যদিকে কোম্পানিগুলো লাভের জন্য কৃষককে তামাক চাষে ঠেলে দিচ্ছে। মাঝখানে পড়ে সর্বনাশ হচ্ছে কৃষকের।