
নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা: দেশে হামের প্রকোপ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে প্রাণ হারিয়েছে আরও ৭ শিশু। এ নিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২৪ জনে। আক্রান্তের সংখ্যাও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে, যা বর্তমানে ৪৪ হাজার ছাড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ বাড়লেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরীক্ষার চেয়েও এখন বেশি জরুরি আক্রান্ত শিশুদের সঠিক চিকিৎসা এবং পর্যাপ্ত ভিটামিন-এ নিশ্চিত করা।
আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য দপ্তরের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১২৮১ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ হাজার ২৬০ জনে। মৃত ৭ জনের মধ্যে ২ জনের নিশ্চিত হাম এবং বাকি ৫ জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে ৫৬ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ২৬৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের আক্ষেপ ও পরামর্শ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল পরীক্ষা বাড়িয়ে এই মহামারি ঠেকানো সম্ভব নয়। বস্তি এলাকা থেকে শুরু করে প্রান্তিক পর্যায়ের শিশুদের জন্য ‘ভিটামিন-এ’ নিশ্চিত করা গেলে মৃত্যুর ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসত। হামে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসার পর অনেক শিশু সময়মতো ভিটামিন-এ পাচ্ছে না বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তারা। তাদের মতে, আগাম ভিটামিন-এ সুরক্ষা থাকলে শিশুরা আক্রান্ত হলেও শারীরিক জটিলতা এত তীব্র হতো না।
হাসপাতালের করুণ চিত্র মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালে কথা হয় নওশের আলী নামে এক অভিভাবকের সাথে। তার ১১ মাস বয়সী সন্তান গত ছয় দিন ধরে আইসিইউতে লড়ছে। তিনি অশ্রুসিক্ত চোখে বলেন, “আগে অন্য হাসপাতালে অনেক খরচ করেছি, কাজ হয়নি। এখন বাচ্চা নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে ভুগছে। জানি না শেষ পর্যন্ত কী হবে।” এমন করুণ দৃশ্য এখন রাজধানীর অনেক হাসপাতালেই নিত্যনৈমিত্তিক।
কিট নিয়ে দোটানা: সংকট নাকি স্বল্পতা? হাম পরীক্ষার কিট নিয়ে জনমনে ধোঁয়াশা থাকলেও বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. মো. মোমিনুর রহমান ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি জানান, “এটি কোনো সংকট নয়, বরং কিটের স্বল্পতা বলা যেতে পারে। কিট সরবরাহ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমাদের টেস্ট বন্ধ নেই, প্রতিদিন ৭০০-৮০০ নমুনা পরীক্ষা করা হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরও বেশ কিছু কিট দেশে পৌঁছাবে।