
সাহের আলী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
পবিত্র ঈদ-উল-আযহার আনন্দ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় এক ব্যতিক্রমী ও মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলার অসহায়, দরিদ্র, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের মানুষের মুখে ঈদের হাসি ফোটানোর লক্ষ্যে ২০০টি নতুন শাড়ি ও মানসম্মত কাপড় বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২৭ মে ২০২৬) সকাল ১০টায় রৌমারী উপজেলা পরিষদ হলরুমে অত্যন্ত ভাবগম্ভীর ও আনন্দঘন পরিবেশে এই মানবিক বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ঈদকে সামনে রেখে আকস্মিক এই উপহার পেয়ে এলাকার শত শত সুবিধাবঞ্চিত মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের জোয়ার। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায় ও দুঃখী মানুষের হাতে ঈদের নতুন শাড়ি ও কাপড় তুলে দেন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য এবং জননেতা মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক। তিনি নিজে প্রতিটি মানুষের কাছে গিয়ে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে এই উপহার সামগ্রী তুলে দেন।
বস্ত্র বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বলেন, “ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। তবে এই আনন্দ তখনোই পূর্ণতা পায়, যখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ একসাথে তা উদযাপন করতে পারে। সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের মুখে এক চিলতে হাসি ফোটানোই আমাদের এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। আমরা চাই রৌমারীর কোনো মানুষ যেন ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়। তিনি দেশের এবং স্থানীয় সামর্থ্যবান ও বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আরও বলেন, “ঈদ শুধু নির্দিষ্ট কোনো ধনী বা উচ্চবিত্ত শ্রেণির মানুষের জন্য নয়। মহান আল্লাহ তায়ালা ঈদকে পাঠিয়েছেন সমাজের প্রতিটি মানুষের জন্য আনন্দের বার্তা হিসেবে। তাই আমাদের যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চারপাশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত। তাদের সাথে ঈদের খুশি ভাগাভাগি করে নিলে একদিকে যেমন মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব, অন্যদিকে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় থাকে। মানবিক এই বস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আলাউদ্দিন। তিনি প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ধরনের উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে যেকোনো সামাজিক ও মানবিক কার্যকলাপে উপজেলা প্রশাসনের পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী রৌমারী উপজেলা শাখার সম্মানিত আমির হায়দার আলী এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নেতা ও বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রাজ্জাক চেয়ারম্যান। স্থানীয় রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে সমাজের অসহায় মানুষের কল্যাণে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের এই সহাবস্থানকে উপস্থিত সাধারণ মানুষ অত্যন্ত ইতিবাচক ও দৃষ্টান্তমূলক হিসেবে দেখছেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এলাকার স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সমাজকর্মী এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ। অনুষ্ঠানে আগত রৌমারী উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা অসহায় নারী ও নিম্ন আয়ের মানুষ নতুন শাড়ি ও কাপড় হাতে পেয়ে আবেগপ্লুত হয়ে পড়েন। ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে এমন চমৎকার উপহার পাবেন, তা অনেকেই কল্পনাও করতে পারেননি। বস্ত্র নিতে আসা ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “ঈদের আগে নতুন শাড়ি পামু ভাবি নাই। এই শাড়িডা পাইয়া আমার খুব উপকার হইলো। এবার ঈদে নাতনীদের নিয়া একটু ভালো কাটাতে পারমু।” অপর এক নিম্ন আয়ের নারী বলেন, “বাজারের কাপড়ের যে দাম, আমাগো কেনার সাধ্য নাই। এই সাহায্য আমাদের জন্য ঈদের সবচেয়ে বড় উপহার। আমরা যারা গরীব, তাদের কথা মনে রাখার জন্য এমপি সাবসহ আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। আল্লাহ উনাদের মঙ্গল করুক।” উপস্থিত অনেকেই দুহাত তুলে আয়োজক ও সংশ্লিষ্ট সকলের দীর্ঘায়ু এবং সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করেন।
রৌমারী উপজেলার এই মানবিক ও সামাজিক উদ্যোগকে স্থানীয় সাধারণ এলাকাবাসী ও সচেতন মহল ব্যাপকভাবে প্রশংসা করেছেন। স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করেন, ঈদ কিংবা যেকোনো বড় উৎসবের আগে এ ধরনের কার্যক্রম সমাজে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এই উদ্যোগটি রৌমারী ও কুড়িগ্রামবাসীর মাঝে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন যে, যদি সমাজের প্রতিটি অঞ্চলের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এভাবে এগিয়ে আসেন, তবে সমাজে কোনো মানুষই বস্ত্রহীন বা অন্নহীন থাকবে না। রৌমারী উপজেলা হলরুমের এই আয়োজন শেষ পর্যন্ত এক মিলনমেলায় পরিণত হয়, যা স্থানীয় মানুষের মনে দীর্ঘদিন গেঁথে থাকবে।