
হোসেনপুরে পশুর চামড়ার দাম পড়ে ২৫০–৩৫০ টাকা, কোরবানি দাতা ও ব্যবসায়ীদের মাজে হতাশা,
তপন চন্দ্র সরকার, স্টাফ রিপোর্টার, হোসেনপুর কিশোরগঞ্জ,
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার বাজারে ব্যাপক দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রতি বর্গফুটে সরকারি নির্ধারিত দাম ঘোষণা থাকলেও বাস্তবে বাজারে তার কোনো প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কোরবানি দাতারা। এতে চরম হতাশা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এ বছর ঢাকার বাইরে (ঢাকা মহানগরের বাইরে) লবণযুক্ত গরুর চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ৫৭ থেকে ৬২ টাকা এবং খাসির চামড়া ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী মহলকে এ মূল্য বাস্তবায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাস্তবে বাজার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। স্থানীয় গোবিন্দপুর বাজার, আমানসরকার, চৌরাস্তা ও বাকচান্দা বাজার এলাকায় সন্ধ্যার পর চামড়া নিয়ে বসে থাকতে দেখা যায় খুচরা ব্যবসায়ীদের। দিনভর সংগ্রহ করা চামড়া বিক্রি না হওয়ায় অনিশ্চয়তা ও লোকসানের শঙ্কায় রয়েছেন তারা। চামড়া ব্যবসায়ী আল আমিন জানান, তিনি সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা দামে কিছু চামড়া কিনলেও ক্রেতা সংকটের কারণে সেগুলো বিক্রি করতে পারছেন না। এদিকে স্থানীয় কোরবানি দাতারা জানান, প্রায় ১ লাখ থেকে ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার গরু কোরবানি দিয়েও সেই গরুর চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ২৫০ থেকে ৩৫০ টাকায়। রোস্তম আলী বলেন, আমরা ১ লাখ ২৫ হাজার টাকার গরু কোরবানি দিলাম, আর সেই গরুর চামড়া বিক্রি করেছি মাত্র ৩৫০ টাকায়। এমন পরিস্থিতি আগে দেখিনি। ডা. আলাল মিয়া বলেন, প্রায় ১ লাখ টাকার গরু কোরবানি দিয়েছি, অথচ সেই গরুর চামড়া বিক্রি করতে হয়েছে মাত্র ২৫০ টাকায়—এটা খুবই
হতাশাজনক। এদিকে খাসি ও বকরি চামড়া বাজারে কেউ কিনছেন না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। বিক্রয় করতে না পেরে শিহাব উদ্দিন নামের এক কোরবানি দাতা তার বাড়িতে চামড়াগুলো গাছের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, দীর্ঘসময় ধরে ক্রেতা না থাকায় অনেকেই বাধ্য হয়ে এভাবেই চামড়া সংরক্ষণ করছেন, যা বাজার পরিস্থিতির আরও করুণ চিত্র তুলে ধরছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দাবি, সরকারি নির্ধারিত মূল্য বাস্তবায়ন, বাজারে কঠোর মনিটরিং এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত না করা হলে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ কোরবানি দাতারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন।