
মুহাম্মদ সালাহ্ উদ্দীন, আলীকদম (বান্দরবান):
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৪ নং কুরুকপাতা ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দুর্গম পাহাড়ি জনপদ আদুই পাড়ার বাসিন্দা মোহাৎ ম্রো (৫৮) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। তিনি স্থানীয় কার্বারী মেনরত ম্রো-এর কন্যা।
আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, রোগীকে প্রায় চার ঘণ্টা অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়। এর আগে তিনি একদিন ধরে তীব্র পেটব্যথায় ভুগছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর রক্তচাপ ও পালস নির্ণয় করতে পারেননি।
শ্বাস-প্রশ্বাস ছিল কষ্টসাধ্য এবং চোখের মণি আলোতে কোনো প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছিল না। জরুরি ভিত্তিতে হার্টসোল ৫০০ মিলিলিটার শিরাপথে (IV) চলমান করা হয়।
চিকিৎসা নথি অনুযায়ী, কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিকভাবে ধারণা করেন যে রোগী প্যানক্রিয়াটাইটিস (Pancreatitis) বা অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।(♦ Shock due to
? Pancreatitis)
তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগের সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
মোহাৎ ম্রোর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের জন্য শোকের ঘটনা নয়; এটি পার্বত্য অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতা ও বাস্তবতাকেও সামনে নিয়ে এসেছে।
আদুই পাড়ার মতো দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বসবাসকারী মানুষের জন্য জরুরি চিকিৎসা পাওয়া এখনও বড় চ্যালেঞ্জ।
পাহাড়ি দুর্গম পথ, সীমিত যানবাহন, দীর্ঘ যাতায়াত সময় এবং চিকিৎসা সুবিধার অপ্রতুলতা অনেক ক্ষেত্রে রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলে দেয়।
স্থানীয়দের মতে, ইউনিয়ন পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা জোরদার, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, জরুরি রোগী পরিবহনের জন্য বিশেষ অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা এবং দুর্গম এলাকায় কমিউনিটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
একই সঙ্গে জটিল রোগ শনাক্তে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণও জরুরি।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে মৃত্যুহার কমাতে হলে প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা, দ্রুত রোগ নির্ণয়, জরুরি রেফারেল ব্যবস্থা এবং যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিকল্প নেই।
অন্যথায় সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে আরও অনেক জীবন অকালেই ঝরে যেতে পারে।
মোহাৎ ম্রোর মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলেছে—দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য সমতলের মতো ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা যাবে কবে?
এ ধরনের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যু কমাতে কী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভবিষ্যতে কী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নীতিনির্ধারকদের জবাবদিহিতা এখন সময়ের দাবি।