
ঈদের ছুটিতে শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকের ঢল পদ্মার তীরে উৎসবের আমেজ
আবু বকর সিদ্দিক:-মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি।
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার শিমুলিয়া ঘাট এখন পরিণত হয়েছে বিনোদনপ্রেমী মানুষের অন্যতম আকর্ষণীয় গন্তব্যে।ঈদের ছুটির চতুর্থ দিনেও পদ্মা নদীর তীরে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে।দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে পুরো ঘাট এলাকা।সরেজমিনে দেখা যায়,সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শিমুলিয়া ঘাটে পর্যটকদের আনাগোনা অব্যাহত রয়েছে পরিবার-পরিজন ও বন্ধু-বান্ধব নিয়ে অনেকেই ট্রলার ও স্পিডবোটে পদ্মা নদীতে ভ্রমণ করছেন।নদীর অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি দর্শনার্থীরা স্থানীয় খাবার ও পদ্মার বিখ্যাত ইলিশের স্বাদ গ্রহণেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন।
ঢাকার মিরপুর থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা পর্যটক মাসুদ বলেন,শিমুলিয়া ঘাটে এসে খুব ভালো লাগছে পরিবার নিয়ে পদ্মা নদীতে ঘুরে বেড়াচ্ছি।শিশুদের জন্য খেলনাও কিনেছি। সব মিলিয়ে ঈদের ছুটির সময়টা দারুণ কাটছে।পর্যটকদের ভিড়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে ঘাটসংলগ্ন ব্যবসা-বাণিজ্য।স্থানীয় হোটেল,রেস্তোরাঁ,খেলনার দোকান ও ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বেড়েছে বেচাকেনা। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান,ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের আগমনে তাদের আয় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া বলেন,পর্যটক বাড়ায় আমাদের আয়ও বেড়েছে।সারাদিন যাত্রী পাওয়া যাচ্ছে,ফলে পরিবারের খরচ মেটানো সহজ হচ্ছে।
স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী আব্দুল মান্নান খান বলেন, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ক্রেতাদের ভিড় লেগেই আছে। পর্যটক বেশি হওয়ায় ব্যবসা ভালো হচ্ছে,এতে স্থানীয় অনেক মানুষ উপকৃত হচ্ছেন।তবে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কয়েকজন পর্যটক। তাদের অভিযোগ,রাতের দিকে কিছু বখাটে যুবকের আনাগোনা বাড়ে এবং মাঝে মাঝে নারী পর্যটকদের বিরক্ত করার ঘটনা ঘটে।তারা পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের নজরদারি বৃদ্ধির দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে,পদ্মা সেতু চালুর পর শিমুলিয়া ঘাটের পর্যটন সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হয়েছে।পর্যাপ্ত নিরাপত্তা,পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে শিমুলিয়া ঘাট দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।এতে যেমন স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে,তেমনি সৃষ্টি হবে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও।