
প্রতারণা মামলার ওয়ারেন্টে মোহনপুরে গ্রেফতার চপল, রয়েছে একাধিক মামলার অভিযোগ
ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় প্রতারণা মামলার গ্রেফতারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি মাজহারুল ইসলাম চপলকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার বিদিরপুর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আদালত থেকে জারি করা ওয়ারেন্ট কার্যকর করতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত মাজহারুল ইসলাম চপল মোহনপুর উপজেলার বিদিরপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে রাজশাহী মহানগরীর চন্দ্রিমা থানায় দায়ের হওয়া একটি প্রতারণা মামলায় আদালত গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতারণার মাধ্যমে এক ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে মামলা দায়ের করলে মামলাটি বিচারাধীন অবস্থায় আদালত আসামির বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট জারি করেন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, পরোয়ানা জারির পর থেকে চপল দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মোহনপুর থানা পুলিশ তার অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। পরে মঙ্গলবার বিকেলে বিদিরপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনায় জানা গেছে, মাজহারুল ইসলাম চপলের বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন ধরনের অভিযোগে একাধিক মামলা দায়ের হয়েছিল। এর মধ্যে ২০০৮ সালে একটি হত্যা মামলায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় বলে জানা যায়। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তার বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবি করেছে।
পুলিশের তথ্যমতে, তার বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার নথিপত্রও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতীতে বিভিন্ন প্রশাসনিক অভিযানে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এ বিষয়ে মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, চন্দ্রিমা থানার একটি সিআর মামলায় আদালত থেকে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানার ভিত্তিতে মাজহারুল ইসলাম চপলকে আটক করা হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পলাতক থাকায় তাকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশ নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রেখেছিল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারের পর আসামির বিরুদ্ধে থাকা অন্যান্য মামলার বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সোপর্দ করা হবে।
পুলিশ বলছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে আসামির বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগের বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে।