
বাসাইলে অবসরপ্রাপ্ত ১৪ জন প্রাথমিক শিক্ষককে বিদায় সংবর্ধনা
মোহাম্মদ নাসির মিয়া, বাসাইল (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধিঃ
টাঙ্গাইলের বাসাইলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেল সাড়ে ৪টায় উপজেলা অডিটোরিয়াম মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি’ বাসাইল উপজেলা শাখার উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মির্জা মোশারফ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও টাঙ্গাইল-৮ (বাসাইল-সখীপুর) আসনের সংসদ সদস্য এডভোকেট আহমেদ আযম খান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, “শিক্ষক অবসরে যাবেন, এটা কিন্তু অবসর শব্দটাই সকলের জন্য একটু কষ্টের। কষ্টের, তাই না? বিদায়—এই শব্দটা সকলের জন্য কষ্টের। সকলের জন্য।”
মন্ত্রী আরও বলেন, “আজকে ১৪ জন শিক্ষক অবসরে যাচ্ছেন, তারা সকলেই প্রাইমারি স্কুলের। আমরা যারা পাকিস্তানের আমলে পড়াশোনা করেছি, আমাদের এখনো মনে আছে, প্রাইমারি স্কুলই আমাদের ফাউন্ডেশন বা ভিত্তি তৈরি করে দিয়েছে। প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক মানেই আমাদের কাছে বড়ই সম্মানের, বড়ই শ্রদ্ধার। যে শিক্ষক আজকে অবসরে যাচ্ছেন, তাদের প্রতি আমার অঢেল সম্মান ও শ্রদ্ধা।”
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনির খান ইমনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইকবাল হোসেন, কান্ট্রি গ্রুপ অফ কোম্পানির ম্যানেজিং ডিরেক্টর আলহাজ্ব আনিসুর রহমান এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ আব্দুল কাদের মিয়া।
এ সময় বাসাইল থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আলমগীর কবির, জেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম মিয়া, উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন আল জাহাঙ্গীর, সাবেক সভাপতি এনামুল করিম অটল, পৌর বিএনপির সভাপতি আক্তারুজ্জামান তুহিন, সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ পিন্টু, বাসাইল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ রানাসহ উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন স্কুলের তিন শতাধিক শিক্ষক-শিক্ষিকা, স্থানীয় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত দুই বছরে ১৪ জন শিক্ষক অবসরে গেছেন। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা ক্রেস্ট ও বিভিন্ন উপহার সামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।