
শ্রীপুর পৌরসভার শহর জোরে এ যেন এক বর্জ্যের স্তূপ
নাম: মোঃ খাইরুল ইসলাম শ্রীপুর উপজেলার প্রতিনিধি গাজীপুর
মোড়ে মোড়ে বর্জ্যের স্তূপ লক্ষ করা গেছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। ঈদ-পরবর্তী সেই ময়লার স্তূপ এখন পাহাড় সমান দাঁড়িয়েছে। বাসাবাড়িতে রাখা ময়লার ড্রাম এখন উপচে পড়ছে। ময়লার মধ্যে সৃষ্টি হচ্ছে পোকা। সেই পোকা উঠে যাচ্ছে বসতঘরে। এ নিয়ে পৌরবাসীর অভিযোগের শেষ নেই। কিন্তু এসব বর্জ্য সরাতে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিচ্ছে না পৌরকর্তৃপক্ষ। ফলে মানুষের ঘরে বাস করাই কঠিন হয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধে বমি চলে এলেও নিরুপায় হয়ে বাসিন্দারা ঘরের দরজা-জানালা আটকে রাখছেন। কিন্তু তাতে কোনো সমাধান হচ্ছে না, দুর্গন্ধ বাড়ছেই। খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, পৌরসভার ৪ নম্বর, ৫ নম্বর, ৬ নম্বর, ২ নম্বর ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে বাসাবাড়ির সামনে, এমনকি শোবার ঘরের পাশেও বর্জ্যের স্তূপ জমে আছে। এতে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। মানুষ নিরুপায় হয়ে দুর্গন্ধ সহ্য করেই বসবাস
সৌর বরো কাপুর বাজার এলাকা, বৈরাগীরসের দশ রূপান্ত ছাপিলা পাড়া, দক্ষিণ ভাংনাহাটি, হলপাড়া এলাকা, কেওয়া এলাকা, মাধখলা, বেতঝুড়ি, মাওনা প্রশিকা মোড়, দারগার চালা, বেলতলী- এসব এলাকার প্রত্যেক বাসাবাড়ির পাশে ময়লা ভর্তি ড্রাম পড়ে আছে। সেগুলো থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। সেসব ময়লা থেকে পোকা বের হয়ে ঘরে চলে যাচ্ছে। মানুষ ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখছে। ড্রামের ময়লা উপচে ফ্লোরে পড়ে থাকছে। সেসব ময়লা থেকে দুর্গন্ধযুক্ত পানি গড়িয়ে ঘরের বারান্দায় চলে যাচ্ছে। ময়লার স্তূপ দিন দিন বাড়লেও তা সরানোর কোনো উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। এ ভোগান্তি নিয়ে বাসিন্দাদের অভিযোগের শেষ নেই।
প্রশিকা মোড় এলাকার বাসিন্দা ওয়াসিম ফকির জানান, ঈদের আগ থেকেই বাসাবাড়ির ড্রাম ময়লা ভর্তি হয়ে আছে। ঈদের ছুটিতে ভাড়াটিয়ারা নিজ নিজ এলাকায় চলে গেলে ময়লা জমানো বন্ধ হয়। তারা ঈদের ছুটি থেকে ফিরে এলে ফের ময়লা বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, ‘আমার আশপাশে অন্তত ১০ থেকে ২০টি বাসার সামনে ময়লার ড্রাম উপচে পড়ছে। সেগুলো থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে দিনরাত। বর্জ্য পচে তাতে পোকা দেখা দিয়েছে। সেই পোকা কিলবিল করতে করতে ঘরে চল আসছে। আমরা নিয়মিত পৌরসভার কর পরিশোধ করি, কিন্তু এ ময়লার ভোগান্তি কমায় না
কর্তৃপক্ষ।’ ছাপিলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া বলেন, মানুষের দৈনন্দিন সৃষ্ট বর্জ্য এখন মানুষের চরম কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমরা বাসা ভাড়া দিয়ে থাকি। সেসব ভাড়াটিয়াদের বর্জ্য সরাতে আমরা পারি না। পৌর কর্তৃপক্ষ আমাদের মানুষই মনে করেন না। উৎকট দুর্গন্ধ আর ময়লার পানিতে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। নিয়মিত পৌরসভার যাবতীয় কর পরিশোধ করি, কিন্তু আমাদের সেবা শূন্য।’
একই এলাকার বাসিন্দা অপু শেখ বলেন, ‘বাসার সিঁড়ির নিচে ড্রামভর্তি ময়লার স্তূপ। সেই ময়লার পচা পানি মাড়িয়ে ঘরে ঢুকে। সেই ড্রাম উপচে ময়লা পড়ছে। সেগুলোতে পোকা ধরেছে। কিন্তু পৌরসভার ময়লা ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সেসব ময়লা নেওয়া হচ্ছে না। ফলে দিন দিন ময়লার ভাগাড় বাড়ছে বাসাবাড়ির সামনে। ঈদের পর থেকে কোনো বাসাবাড়ির ময়লা নেওয়া হয়নি। এ দুর্ভোগ সহ্য করার মতে নয়। নিরুপায় বাসিন্দারা দুর্গন্ধ মেনেই চলছেন।’
মাধখলা এলাকার ভাড়াটিয়া আলী আজম বলেন, ‘ঈদের পর বাড়ি থেকে ফিরে এসে অফিস শুরু করেছি। এরই মধ্যে বাসার সামনের ময়লার ড্রাম উপচে গেছে। বাড়ির মালিককে জানালেও তারা তা সরানোর ব্যবস্থা করছে না। এর ফলে দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। দ্রুত এর পরিত্রাণ চাই।’
পৌরপরিদর্শক জহির উদ্দীন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি। তবে আমাদের স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় আমরাও ময়লা ও মানববর্জ্য নিয়ে বিপাকে আছি। বর্জ্য সরানোর স্থায়ী ডাম্পিং স্টেশন না হওয়া পর্যন্ত এ ভোগান্তি কমানো কঠিন।’
বর্জ্য পরিবহন করা শ্রমিক রাসেল মিয়া বলেন, ‘নিয়মিত ময়লা নেওয়া হচ্ছে। তবে ভুলে কারও কারও বাসার সামনের ড্রাম থেকে ময়লা আনা সম্ভব হয় না। ফোন দিলে দ্রুত সময়ে ময়লা নেওয়া হবে।’
শ্রীপুর পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদ ভূঞা বলেন, ‘ঈদের পর দুদিনে কোরবানির সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছিল। তবে এখন মানবসৃষ্ট বর্জ্য বাড়ছে। আমরা দ্রুত সেগুলো ডাম্পিং করার ব্যবস্থা করব।