
ডুমুরিয়ায় গ্রামীণ সিম কোম্পানীর প্রতিনিধির উপর দুর্বৃত্তের হামলা, প্রায় ২ লক্ষাধিক টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ
মোঃসেলিম রেজা।
উপজেলা ডুমুরিয়া খুলনা।
খুলনার ডুমুরিয়ায় গ্রামীণ সিম কোম্পানীর এস আর এর ওপর দুর্বৃত্তের হামলা। গুরুত্বর জখম অবস্থায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি। থানার লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়,উপজেলার খলশী গ্রামের মোঃ সোহেল গাজীর ছেলে সুমন গাজী গ্রামীণ সিম কোম্পানীতে এসআর হিসেবে দোকানে ফ্ল্যাক্সিলোডের টাকা দেওয়ার চাকুরি করেন।
প্রতিদিনের ন্যায় গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯ টার দিকে আহত সুমন গাজী তার কাজ শেষ করে নিজ ব্যবহ্রত মোটর সাইকেল করে সাজিয়াড়া হতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হয়।
একপর্যায়ে সাজিয়াড়া গ্রামস্থ পূজা মন্দিরের রাস্তার উপর পৌঁছালে পূর্ব হতে উৎ পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা গ্রামীণ সিম কোম্পানীর প্রতিনিধি সুমন গাজীর পথ রোধ করে এবং তার কাছে থাকা টাকা পয়সা সহ যা কিছু আছে সেগুলো অভিযুক্ত শহিদ মল্লিক সহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা দিতে বলে। কিন্তু আহত সুমন গাজী তার কাছে থাকা টাকা পয়সা দিবেনা জানালে সাজিয়াড়া গ্রামের বাসিন্দা অভিযুক্ত ফারুক ওরফে জটু মল্লিকের ছেলে শহিদ মল্লিক সহ অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন লোহার রড দিয়ে আহত সুমন গাজীকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথার মাঝ বরাবর আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে এবং ঐ রড দিয়ে সুমন গাজীর ডান চোখের নিচে ও ডান হাতের বাহুতে সজোরের আঘাত করে জখম করে আহত করে। সুমন গাজী তাৎক্ষণিক অচেতন হয়ে পরলে তার কাছে থাকা ব্যাগের ভিতরে ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনতাই করে নিয়ে চলে যায় শহিদ মল্লিক গংরা।
পরবর্তীতে সুমন গাজীর বাবা সোহেল গাজী সংবাদ পান তার ছেলে সাজিয়াড়া মোড়স্থ বাজারে ডাক্তার তৈয়েবুরের দোকানে আহত অবস্থায় পড়ে আছে। তাৎক্ষণিক স্থানীয়দের সহায়তায় ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ডুমুরিয়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন এবং চিকিৎসা নিতে থাকেন । তবে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২২ আগস্ট উন্নত চিকিৎসার জন্য সুমন গাজীকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেছেন ডুমুরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ। এদিকে গত ২১ আগস্ট আহত সুমন গাজীর বাবা সোহেল গাজী ঘটনার বিষয়ে ডুমুরিয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
তবে ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত শহিদ মল্লিকের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ডুমুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন,খবর পেয়ে স্থানীয় পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পূর্বশত্রুতার জেরে নাকি অন্য কোনো কারণে এই হামলা হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে এবং জড়িত দুর্বৃত্তদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু হয়েছে। এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করলেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।