
আরমান হোসেন ফয়সাল, চট্টগ্রাম।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। রায়হানের বাবা নাজিম উদ্দিন বলেন, ছেলেকে হারিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছেন। সাত মাস আগে চুল কাটতে যাওয়ার কথা বলে রায়হান বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। এরপর আর সে বাড়িতে ফেরেনি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর চুনতি সীরত মাহফিলের মাঠে ছেলের সন্ধান পাওয়ায় তিনি তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হন। ছেলের এমন পরিণতির জন্য যারা দায়ী, তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে ছেলেকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সহায়তার প্রত্যাশাও জানিয়েছেন।
ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হওয়ার পর কোনো শিশু কোথায় যাচ্ছে, কীভাবে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পৌঁছাচ্ছে এবং কারা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে—এসব বিষয়ে নজরদারি বাড়ানোর দাবি উঠেছে। রায়হানের অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত গুরুতর মানবিক ও অপরাধমূলক ঘটনা। একটি শিশুকে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করার অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় রায়হানের বক্তব্য ও তার শারীরিক অবস্থার যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পাশাপাশি কীভাবে সে কক্সবাজার থেকে ঢাকায় গেল এবং পরে কীভাবে চুনতিতে ফিরে এল, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে রায়হানের দাবি করা চক্রে আরও শিশু থাকার বিষয়টিও তদন্তের আওতায় আনা জরুরি। ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করা হয়ে থাকলে শুধু রায়হানের ওপর সংঘটিত ঘটনার বিচার নয়, একই ধরনের পরিস্থিতিতে থাকা অন্য শিশুদের উদ্ধারের উদ্যোগও প্রয়োজন।
সাত মাস পর মাহফিলের মাঠে বাবার সঙ্গে রায়হানের এই পুনর্মিলন যেমন পরিবারটির জন্য স্বস্তির, তেমনি তার বর্ণিত ঘটনা শিশু নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। রায়হানের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুদের দ্রুত শনাক্ত ও উদ্ধারে পরিবার, স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সমাজের সবাইকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হলে ঘটনাটির প্রকৃত চিত্র এবং এর পেছনে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সামনে আসতে পারে।