
হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের কাণ্ডারি শামসুল উদ্দিন বাদল: এক নির্ভীক ছাত্রনেতার ত্যাগ ও সংগ্রামের গল্প
মোহাম্মদ রায়হান ইসলাম, উপজেলা প্রতিনিধি (টেকনাফ):
টেকনাফ উপজেলার সীমান্তের এক জনপদ হ্নীলা ইউনিয়নে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নাম নিলেই আজ যার নাম চোখের সামনে ভেসে ওঠে, তিনি আর কেউ নন—বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের পরীক্ষিত সৈনিক শামসুল উদ্দিন বাদল।
কালনাগিনীর ফ্যাসিস্ট কাল শাপের ছোবল কে তার সংগ্রামের মাধ্যমে দিয়ে তার রাজনৈতিক পদে চলা?
(২০০৮) সাল; বাংলাদেশে তখন এক নতুন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটছে। ঠিক সেই সময় থেকেই শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে, জাতীয়তাবাদের মন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে ছাত্র রাজনীতিতে পা রাখেন তরুণ শামসুল উদ্দিন বাদল। কিন্তু তার রাজনীতির খাতা খোলার পরপরই শুরু হয় তৎকালীন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সরকারের জুলুম-নিপীড়নের এক অন্ধকার অধ্যায়।তখন তিনি হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদলে সাথে সংপৃক্ত।
ছাত্র নেতা বাদল তার জীবনের “কাল শাপ” বা বিষাক্ত কালনাগিনীর নামে রুপান্তরিত হয়ে গেল ফ্যাসিস্ট সরকার। তখন থেকে তার জীবন আরু অন্দর হয়ে গেছে! এক দিখে ফ্যাসিস্ট বিরোধীদলীয় সংগ্রাম করে তিনি জায়গায় করে নিলেন হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্র দলের সভাপতি পদ। আর এই পদ আরু বিষাক্ত হয়ে গেছে।
তখন তার মামলা-হামলার ক্ষতবিক্ষত এক ছোট জীবন
ফ্যাসিবাদী আমলে যেখানে কথা বলাই ছিল অপরাধ, সেখানে হ্নীলা ইউনিয়নে ছাত্রদলের মশাল জ্বালিয়ে রাখা মোটেও সহজ ছিল না। এই ছোট জীবনেই শামসুল উদ্দিন বাদলের ওপর নেমে আসে একের পর এক মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। স্বৈরাচারী সরকারের দেয়া ৫টি রাজনৈতিক মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে বছরের পর বছর তাকে কাটাতে হয়েছে ফেরারি জীবন।
”এই সব মামলা মাথায় নিয়ে কখনো পাহাড়ে, কখনো দূর-দূরান্তে রাত কাটাতে হয়েছে। কিন্তু বুক থেকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারুণ্যের অহংকার তারেক রহমানের আদর্শকে মুছে ফেলতে পারেনি ফ্যাসিস্টদের কোনো নির্যাতনে।”
— হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের তৃণমূল নেতা-কর্মীরা।
কারাগারের অন্ধকার, ও পুলিশি হয়রানি আর প্রতিনিয়ত প্রাণনাশের হুমকি—সবকিছুকে উপেক্ষা করে হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদলকে সুসংগঠিত রাখতে দিনরাত পরিশ্রম করেছেন বর্তমান এই সভাপতি বাদল । ফ্যাসিস্ট আমলের অবর্ণনীয় নির্যাতন সহ্য করেও তিনি মাঠ ছাড়েননি, বরং প্রতিটি রাজপথের আন্দোলনে নেতাকর্মীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন।
উপজেলা নেতৃত্বে বাদলকে চায় তৃণমূল।
দীর্ঘ স্বৈরাচারের পতনের পর এখন সময় এসেছে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়নের। হ্নীলা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাধারণ নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবি—আগামীতে টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের যে নতুন কমিটি গঠন করা হবে, সেখানে শামসুল উদ্দিন বাদলের মতো ত্যাগী, নির্যাতিত এবং রাজপথ কাঁপানো নেতাকে শীর্ষ নেতৃত্বে রাখা হোক।
বিএনপির চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের নির্দেশ
পরীক্ষিত নেতৃত্ব: যিনি কঠিন সময়ে দলকে ছেড়ে যাননি, তাকেই উপজেলার নেতৃত্বে প্রয়োজন।
যিনি (৫)টি মামলার শিকার হওয়া এই ছাত্রনেতাকে মূল্যায়ন করলে টেকনাফে ছাত্রদল আরও শক্তিশালী হবে।
আগামী দিন কে ফ্যাসিবাদ মুক্ত বাংলাদেশে টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলকে ঢেলে সাজাতে বাদলের ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
শামসুল উদ্দিন বাদল হ্নীলা ছাড়িয়ে এখন পুরো টেকনাফ উপজেলার ছাত্রসমাজের এক আস্থার প্রতীক। ফ্যাসিস্ট আমলের নির্যাতনের ক্ষত বয়ে বেড়ানো এই ছাত্রনেতাই আগামী দিনে টেকনাফ উপজেলা ছাত্রদলের হাল ধরবেন—এমনটাই প্রত্যাশা এখন সীমান্ত জনপদের হাজারো ছাত্রজনতার।