
মোহাম্মদ হানিফ ফেনী জেলা প্রতিনিধি
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার উদ্যোগে তদন্ত ও পরিমাপ; প্রশাসন ও স্থানীয়দের উপস্থিতিতে উভয় পক্ষের সন্তোষ
ফেনী সদর উপজেলার ৭ নম্বর বালিগাঁও ইউনিয়নের সুন্দরপুর গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জমির সীমানা বিরোধের অবশেষে শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী একটি সংস্থার উদ্যোগে সরেজমিন তদন্ত, কাগজপত্র যাচাই এবং পরিমাপ কার্যক্রম সম্পন্ন করে জমির সঠিক সীমানা নির্ধারণ করা হয়।
জানা যায়, তাজুল ইসলাম (পিতা: অলী আহমেদ) গং এবং অপর পক্ষ মিজান (মাতা: ছেমনা খাতুন), রূপবান (পিতা: বজলুর রহমান), নুর নবী ও মাহবুব নবী (পিতা: অলি আহমেদ)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা ও সীমানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা হলেও তা সফল হয়নি, ফলে বিষয়টি জটিল আকার ধারণ করে।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীরা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা প্রদানকারী সংস্থার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাটির কেন্দ্রীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন সংস্থার কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের যুগ্ম মহাসচিব ও চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক আবুল কাশেম, সহকারী যুগ্ম মহাসচিব ও ফেনী জেলা আঞ্চলিক পরিচালক মোহাম্মদ হানিফ এবং ফেনী জেলা সহকারী তথ্য পরিচালক মোহাম্মদ ওসমান গনী। জমি পরিমাপের দায়িত্ব পালন করেন অভিজ্ঞ সার্ভেয়ার মাষ্টার আবুল কাশেম।
এছাড়াও স্থানীয় সমাজের সভাপতি সেফায়াত উল্ল্যাহসহ গণ্যমান্য ব্যক্তি নুর করিম ও রবিউল হক উপস্থিত থেকে পুরো কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং সমাধান প্রক্রিয়াকে সহায়তা করেন।
সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য শোনা, দলিল-দস্তাবেজ যাচাই এবং সরেজমিনে মাপজোক শেষে জমির সুনির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা হয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় উভয় পক্ষই সন্তোষ প্রকাশ করেন।
এলাকাবাসীরা জানান, দীর্ঘদিনের এ বিরোধের কারণে এলাকায় অস্থিরতা বিরাজ করছিল। সমাধানের মাধ্যমে এলাকায় স্বস্তি ফিরে এসেছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যা এড়ানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সংস্থার কর্মকর্তারা বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ এড়াতে সঠিক নথিপত্র সংরক্ষণ, নিয়মিত রেকর্ড হালনাগাদ এবং পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে সমস্যা সমাধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা আরও জানান, মানবাধিকার রক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় তাদের সংস্থা ভবিষ্যতেও সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য বিরোধ নিষ্পত্তিতেও কার্যকর ভূমিকা রাখবে।