
নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রভাতী বাংলাদেশ
অতিরিক্ত চুল পড়া নিয়ে চিন্তিত? ঘন, কালো ও মজবুত চুল পেতে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই মিলতে পারে কাঙ্ক্ষিত সমাধান। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. তাসনিম জারা সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় চুল পড়া রোধে ও চুলের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ১০টি বিশেষ খাবারের তালিকা দিয়েছেন। জেনে নিন সেই খাবারগুলো সম্পর্কে—
১. বাদাম: চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, কাঠবাদাম ও ওয়ালনাটে রয়েছে ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, যা চুলের গোড়া মজবুত করতে সাহায্য করে। তবে অতিরিক্ত খাওয়া যাবে না, এতে ওজন বাড়ার সম্ভাবনা থাকে। ২. হলুদ-কমলা সবজি: মিষ্টি কুমড়া, গাজর, মিষ্টি আলু ও আম ভিটামিন ‘এ’-তে ভরপুর। এটি চুলের ফলিকল সচল রাখতে অপরিহার্য। ৩. তৈলাক্ত মাছ: ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডের জন্য ইলিশ, কৈ বা মলা মাছের মতো দেশি মাছগুলো চমৎকার উৎস। এটি প্রোটিনেরও বড় জোগানদাতা। ৪. ডিম: চুল প্রোটিন দিয়ে তৈরি। ডিমের বায়োটিন, সেলেনিয়াম ও ভিটামিন বি-১২ চুলকে কালো ও ঘন রাখতে সহায়তা করে। ৫. পালং শাক: আয়রন, ভিটামিন ‘এ’ ও ‘সি’-এর পাওয়ার হাউস হলো পালং শাক, যা ভেতর থেকে চুলে পুষ্টি জোগায়। ৬. ডাল: আয়রন, প্রোটিন ও জিঙ্ক সমৃদ্ধ ডাল চুলের গোড়ায় রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। পাতলা ডালের চেয়ে ঘন ডাল খাওয়া বেশি উপকারী। ৭. বীজ জাতীয় খাবার: চিয়া সিড, সূর্যমুখী বা কুমড়োর বীজ চুলের যত্নে অনন্য। এগুলোতে থাকা ওমেগা-৩ ও অন্যান্য উপাদান চুল পড়া কমায়। ৮. ছোলা: প্রোটিন ও জিঙ্কের দারুণ উৎস ছোলা চুলের অকাল ঝরা রোধ করে। ৯. টক দই: প্রোটিন ও জিঙ্কের জোগান দেয় টক দই। এটি চুলের স্বাস্থ্যের জন্য বেশ কার্যকর। ১০. টক ফল: ভিটামিন ‘সি’-এর অভাবে চুল পেঁচিয়ে যায় (কর্কস্ক্রু হেয়ার)। তাই কমলা, মাল্টা বা লেবু নিয়মিত খান। এটি শরীরকে আয়রন শোষণেও সাহায্য করে।
ডা. তাসনিম জারা জানান, চুলের যত্নে অনেক সময় আমরা ভুল কিছু পদ্ধতি মেনে চলি:
কন্ডিশনারের ব্যবহার: শ্যাম্পুর পর অবশ্যই কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। এটি চুলে প্রাকৃতিক তেলের ভারসাম্য ফেরাতে সাহায্য করে।
মুছে ফেলার নিয়ম: তোয়ালে দিয়ে ঘষে চুল মুছবেন না, এতে চুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। হালকা চাপে পানি শুকিয়ে নিন।
ভেজা চুল আঁচড়ানো: ভেজা চুল আঁচড়ানো পরিহার করুন। এতে চুল পড়ার প্রবণতা বাড়ে।
হিট প্রয়োগ: ব্লো ড্রায়ার বা কার্লিং আয়রন যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। করতে হলে সর্বনিম্ন হিটে করুন।
টাইট হেয়ারস্টাইল: খুব টাইট করে চুল বাঁধবেন না। এতে ‘ট্র্যাকশন এলোপেশিয়া’ নামক সমস্যা হতে পারে।
এছাড়া, বাজারের সব ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট এড়িয়ে চলাই শ্রেয়। তবে শরীরে ভিটামিন-ডি এর ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট নিতে পারেন। যদি জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনার পরও অতিরিক্ত চুল পড়ে, তবে দ্রুত একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ থাইরয়েড বা রক্তশূন্যতার মতো রোগের কারণেও চুল পড়তে পারে।