
শান্তিগঞ্জে মা ও শিশুর পুষ্টি মান উন্নয়নে ‘মেইন’ প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত
দিলীপ কুমার দাশ, স্টাফ রিপোর্টার (সুনামগঞ্জ)
সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে মা ও শিশুর পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অণুপুষ্টি কণার ঘাটতি পূরণের লক্ষ্যে ‘মাল্টিসেক্টোরাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশন’ (MAIN) প্রকল্পের অবহিতকরণ কর্মশালা ও উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির (UNCC) দ্বি-মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার এফআইভিডিবি (FIVDB) কনফারেন্স রুমে এই গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমিউনিটি ক্লিনিক হেলথ সাপোর্ট ট্রাস্টের উপ-সচিব মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো: জসীম উদ্দিন এবং জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের উপ-পরিচালক ডা. শ্যামল কুমার রায়।
অনুষ্ঠানের শুরুতে ‘মেইন’ (MAIN) প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা নিয়ে মূল ব্রিফিং প্রদান করেন ডা. সুবীর খিয়াং বাবু। উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির (UNCC) কার্যক্রম ও বহুখাত ভিত্তিক পুষ্টির সমন্বয় বিষয়ে একটি তথ্যবহুল উপস্থাপনা (Presentation) প্রদান করেন হাফিজুল ইসলাম।
সভায় জানানো হয়, কেয়ার বাংলাদেশ, হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনস, আইডিই (iDE) বাংলাদেশ এবং দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর একটি শক্তিশালী জোট এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো শান্তিগঞ্জ সহ দেশের ২১টি উপজেলায় গর্ভবতী নারী ও শিশুদের অণুপুষ্টিকণার অভাব দূর করা এবং নিরাপদ কৃষি ও স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন (WASH) ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
বক্তারা বলেন, বায়ো-ফর্টিফাইড জিংক ধানের প্রসার এবং গর্ভবতী মায়েদের জন্য মাল্টিপল মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট সাপ্লিমেন্ট (MMS) নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি সুস্থ ও মেধাবী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ও বেসরকারি সকল বিভাগের নিবিড় সমন্বয় অত্যন্ত জরুরি।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো: ইকবাল হাসান। এছাড়াও জোটের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দি হাঙ্গার প্রজেক্ট-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর প্রশান্ত ত্রিপুরা, হারভেস্টপ্লাস সল্যুশনস-এর কান্ট্রি ম্যানেজার ওয়াহিদুল আমিন, কেয়ার বাংলাদেশ-এর প্রতিনিধি ফাতেমা জাহান সীমা এবং আইডিই বাংলাদেশ-এর প্রজেক্ট ম্যানেজার আরিফুল ইসলাম।
সভার শেষে উপস্থিত সকল অতিথি ও অংশগ্রহণকারীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন মজিবর রহমান। স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধি এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারগণ আশা প্রকাশ করেন যে, এই প্রকল্প শান্তিগঞ্জ উপজেলার পুষ্টি পরিস্থিতি উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।