
বলিউডের রুপালি জগতের এক পরিচিত ও শক্তিশালী অভিনেতা ভরত কাপুর আর নেই। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকেলের দিকে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুম্বাইয়ের নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তিনি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ভিলেনের সহচর বা চরিত্রাভিনেতা হিসেবে পর্দায় তিনি যে দাপট দেখিয়েছেন, তা দর্শক আজীবন মনে রাখবে। সুনিপুণ অভিনয় ও তীক্ষ্ণ সংলাপ বলার ভঙ্গিমায় তিনি নিজস্ব এক পরিচয় তৈরি করেছিলেন। শুধু বড় পর্দায় নয়, নাট্যমঞ্চেও ছিল তার দৃপ্ত পদচারণা।
সোমবার সন্ধ্যায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে এই বরেণ্য শিল্পীর। দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও বন্ধু অবতার গিল তার প্রয়াণে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। অবতার জানান, গত কয়েকদিন ধরেই অভিনেতা বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। প্রায় পাঁচ দশকের গভীর বন্ধুত্ব ছিল তাদের।
সাতের দশকে বলিউডে অভিনয় জীবন শুরু করা ভরত কাপুর অসংখ্য ব্যবসাসফল সিনেমায় নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার তালিকায় রয়েছে ‘নুরি’, ‘রাম বলরাম’, ‘লাভ স্টোরি’, ‘বাজার’, ‘গুলামি’ ও ‘সাজন চলে শ্বশুরাল’। আইনজীবী, পুলিশ কিংবা দুর্ধর্ষ খলনায়কের ডান হাত—প্রতিটি চরিত্রেই তিনি ছিলেন অনবদ্য।
শুধু বড় পর্দাতেই নয়, ছোটপর্দাতেও তিনি ছিলেন সমান জনপ্রিয়। ‘ক্যাম্পাস’, ‘শাঁস’, ‘আমানত’, ‘তারা’ এবং ‘চুনোতি’-র মতো জনপ্রিয় ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি প্রতিটি ঘরে পৌঁছে গিয়েছিলেন। নিজের অভিনয়ের দক্ষতায় মূল ফোকাস না নিয়েও চরিত্রকে ফুটিয়ে তোলার জাদুকরী ক্ষমতা ছিল তার।
ব্যক্তিগত জীবনে স্ত্রী লোপা এবং দুই পুত্র রাহুল ও সাগরকে রেখে গেছেন তিনি। এর আগে তার একমাত্র কন্যা কবিতাকে হারিয়েছিলেন এই অভিনেতা। ভরত কাপুরের এই প্রস্থান শোকাচ্ছন্ন করে তুলেছে তার অসংখ্য ভক্ত-অনুরাগীকে। তবে তার কালজয়ী অভিনয়ের মাধ্যমেই তিনি দর্শকদের হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।