
টাঙ্গাইল জেলা ঘাটাইল থানার দস্যুতা মামলার আলামত-একটি ইজিবাইক ০২ গ্রেফতার*
আঃহালিম আতিক টাঙ্গাইল জেলা প্রতিনিধি
ঘাটাইল থানাধীন ঝড়কা এলাকায় সংঘটিত একটি ছিনতাই ও অপহরণ সংক্রান্ত ঘটনায় ঘাটাইল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক ও পেশাদারিত্বের সাথে অভিযান পরিচালনা করে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য অর্জন করেছে।
গত ২৯/০৪/২০২৬ খ্রিঃ তারিখ ভোর আনুমানিক ০৫:৪০ ঘটিকায় ভিকটিম একজন ইজিবাইক চালক যাত্রী পরিবহনের উদ্দেশ্যে বের হলে যাত্রীবেশী ০২ (দুই) জন দুর্বৃত্ত তার ইজিবাইকে উঠে। পরবর্তীতে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী ঝড়কা এলাকা পার হয়ে নির্জন স্থানে পৌঁছালে একটি প্রাইভেটকারযোগে আরও ০২ (দুই) জন যোগ দিয়ে মোট ০৪ (চার) জন আসামি তাকে জোরপূর্বক অপহরণ করে, মারধর করে এবং তার ব্যবহৃত ইজিবাইক, নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে ভিকটিমকে বিভিন্ন স্থানে ঘোরাফেরা করিয়ে কালিহাতী থানা এলাকায় একটি ব্রিজের নিকট ফেলে রেখে আসামিরা পালিয়ে যায়।
মামলা দায়েরের পর টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার জনাব মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার মহোদয়ের দিকনির্দেশনায় এবং গোপালপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব ফৌজিয়া হাবিব খান মহোদয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে, অফিসার ইনচার্জ, ঘাটাইল থানা জনাব মোঃ মোকছেদুর রহমান এর নেতৃত্বে একটি চৌকস টিম গঠন করা হয়। উক্ত টিমে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই (নিঃ) মোঃ নাজিম উদ্দিন, এএসআই সুমন কুমার সরকারসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্য সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
ঘটনার পরপরই গঠিত টিমটি তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে অভিযান পরিচালনা করে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর জেলার সদর থানাধীন দড়িপাড়া বাইপাস এলাকায় অভিযান চালিয়ে আসামি ১। লিটন আহমেদ (২৫) ও ২। মোঃ মেহেদী হাসান (২৪) কে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেখানো মতে একটি অটো শো-রুম হতে ভিকটিমের ছিনতাইকৃত ইজিবাইক উদ্ধার করা হয় এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় জব্দ করা হয়। গ্রেফতারকৃত আসামিদ্বয় প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনার সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতার বিষয় স্বীকার করলেও অন্যান্য পলাতক আসামিদের বিষয়ে তথ্য গোপন করার চেষ্টা করছে। অবশিষ্ট আসামিদের গ্রেফতার এবং ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী শনাক্তকরণের লক্ষ্যে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
উক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে এবং গ্রেফতারকৃত আসামিদের আদালতে প্রেরণপূর্বক ০৭ (সাত) দিনের পুলিশ রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। ঘাটাইল থানা পুলিশ জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বদা তৎপর রয়েছে এবং এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত থাকবে।