
রাজশাহী জেলার বিভিন্ন উপজেলায় চাঞ্চল্যকর মিটার চুরি চক্রের মূল হোতা গ্রে/ফ/তা/র, ১৪ মিটার উ/দ্ধা/র
মোঃ শাহিনুর রহমান আকাশ, স্টাফ রিপোর্টার
রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় গভীর নলকূপের বৈদ্যুতিক মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় একটি চক্রের মূল হোতা রাশিদ হাসান (২৪)কে সিরাজগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
শনিবার (শুক্রবার রাতে অভিযান চালিয়ে) সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার চড়িয়া মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। তিনি ওই এলাকার ইউসুব আলীর ছেলে।
পুলিশ জানায়, সলঙ্গা থানা পুলিশের সহযোগিতায় বাগমারা থানা পুলিশ এ অভিযান পরিচালনা করে। গ্রেফতারের পর তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী রাতভর বাগমারার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চুরি হওয়া ১৪টি বৈদ্যুতিক মিটার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাশিদ হাসান বাগমারার একাধিক এলাকা থেকে মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের মধ্যে গোবিন্দপাড়া, আউচপাড়া, বাসুপাড়া, শুভডাঙ্গা, সোনাডাঙ্গা, নরদাশ, গনিপুর ও মাড়িয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গভীর নলকূপ থেকে মোট ৬৫টি মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
শুধু বাগমারা উপজেলা নয় বেশ কিছুদিন আগে পার্শ্ববর্তী দুর্গাপুরের উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে, একই কৌশলে অনেক মিটার চুরি করা হয়েছে,
চুরির সময় চোরচক্র সাদা কাগজে মোবাইল নম্বর লিখে রেখে প্রতিটি মিটারের জন্য পাঁচ হাজার টাকা এবং ট্রান্সফরমারের জন্য সাত থেকে দশ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিকাশে টাকা পাঠানোর পর নির্দেশনা অনুযায়ী ঝোপঝাড় বা নির্দিষ্ট স্থানে রাখা অবস্থায় অনেক ভুক্তভোগী তাদের চুরি যাওয়া মিটার ফেরত পান বলেও জানা গেছে।
বোরো মৌসুমে এ ধরনের চুরির কারণে সেচ কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীরা থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এর ভিত্তিতে মোবাইল ট্র্যাকিং ও প্রযুক্তির সহায়তায় চক্রটির অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালানো হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিল্লুর রহমান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক রাশিদ ৭৫টিরও বেশি মিটার ও ট্রান্সফরমার চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, চুরির সঙ্গে পল্লীবিদ্যুৎ বিভাগের কেউ জড়িত আছে কি না তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।