
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী
মধুমাস জ্যৈষ্ঠ শুরু হতে এখনো কিছুদিন বাকি থাকলেও রাজশাহীর বাজারে আগাম লিচুর উপস্থিতি চোখে পড়তে শুরু করেছে। নগরীর সাহেববাজার, রেলগেট, নিউ মার্কেট, শালবাগানসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট দোকান ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের ঝুড়িতে এখন শোভা পাচ্ছে লালচে রঙের লিচু। মৌসুমের শুরুতেই বাজারে লিচু আসায় ফলপ্রেমীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। তবে স্বাদ ও দাম নিয়ে ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বর্তমানে বাজারে বিক্রি হওয়া লিচুর বেশিরভাগই দেশি ও আঁটি জাতের। বাগান মালিকরা বলছেন, চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত গরম ও দীর্ঘস্থায়ী খরার কারণে অনেক লিচু ঠিকভাবে পরিপক্ব হওয়ার আগেই ফেটে যাচ্ছে। এতে উৎপাদন ক্ষতির আশঙ্কা বাড়ায় অনেক চাষি বাধ্য হয়ে কিছুটা কাঁচা বা আধাপাকা অবস্থাতেই লিচু বাজারজাত করছেন।
চাষিদের ভাষ্য, রাজশাহীর জনপ্রিয় বোম্বাই, বারি-৩ ও চায়না-৩ জাতের উন্নত মানের লিচু বাজারে আসতে আরও অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগবে। তখন বাজারে সরবরাহ বাড়বে এবং স্বাদেও ভিন্নতা আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মৌসুমের শুরু হওয়ায় বর্তমানে লিচুর দাম অনেকটাই চড়া। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আকার ও মানভেদে প্রতি ১০০ দেশি লিচু বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকায়। অর্থাৎ প্রতিটি লিচুর দাম পড়ছে প্রায় ৩ থেকে ৫ টাকা।
ক্রেতাদের অনেকে বলছেন, গত বছরের তুলনায় এবার শুরুতেই দাম অনেক বেশি। সাহেববাজারে লিচু কিনতে আসা এক ক্রেতা জানান, সন্তানদের জন্য লিচু কিনতে এলেও দাম শুনে তিনি বিস্মিত হয়েছেন। পরে বাধ্য হয়ে অল্প পরিমাণ লিচু কিনেই ফিরে যেতে হয়েছে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় প্রায় ৫২৬ থেকে ৫২৮ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। এবার প্রায় ৩ হাজার ৮০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে অতিরিক্ত তাপদাহ, খরা, গুটি ঝরে পড়া এবং ফল ফেটে যাওয়ার কারণে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন নিয়ে কিছুটা শঙ্কা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদরা আগাম বাজারে আসা আধাপাকা লিচু খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। বিশেষ করে শিশুদের খালি পেটে অপরিপক্ব লিচু না খাওয়াতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে উন্নত জাতের লিচু পুরোপুরি বাজারে চলে এলে সরবরাহ বাড়বে। তখন দাম কিছুটা কমে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যেও চলে আসতে পারে।