
রাজশাহীতে হোটেলের ক্ষতিপূরণ দাবি করায় ‘চাঁদাবাজ’ অপপ্রচারের অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীর দাবি
অপু দাস, ব্যুরো প্রধান, রাজশাহী।
রাজশাহী মহানগরীতে বহুতল ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে ক্ষতিগ্রস্ত একটি আবাসিক হোটেলের মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা দাবি করায় তাকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী এনাজুল হক অমি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও ন্যায্য পাওনা আদায়ের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজশাহী বরেন্দ্র প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন হোটেল ‘হক’স ইন’-এর স্বত্বাধিকারী এনাজুল হক অমি।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, রাজশাহী মহানগরীর শিরোইল কাঁচাবাজার এলাকায় তার বাবা মৃত এনামুল হকের মালিকানাধীন ‘হোটেল হক’স ইন’-এর পাশেই ‘জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ’ লিমিটেড ২১ তলা বিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করছে। অভিযোগ অনুযায়ী, নির্মাণকাজে যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না নেওয়ায় হোটেল ভবনে ফাটল ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষয়ক্ষতি দেখা দেয়।
এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২৬ জুন রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (আরডিএ)-তে অভিযোগ দায়ের করা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি সমঝোতা হয় বলে জানান অমি। সেই সমঝোতা অনুযায়ী হোটেল সংস্কার ও ক্ষতিপূরণ বাবদ মোট ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়।
তিনি দাবি করেন, ভবন কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও এখনও ১০ লাখ ৮৩ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সেই টাকা পরিশোধে গড়িমসি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অমির ভাষ্য অনুযায়ী, গত ১৩ মে ভবন কর্তৃপক্ষ পুনরায় নির্মাণকাজ শুরু করলে তিনি পাওনা টাকার বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সময় অভিযুক্ত তুহিন ও জয়নগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মিজানুর রহমান তাকে গালিগালাজ করেন এবং শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে এনাজুল হক অমি বলেন, “আমি একজন ব্যবসায়ী। আমার ন্যায্য পাওনা টাকা দাবি করায় আমাকে চাঁদাবাজ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সামাজিকভাবে হেয় করতে অপহরণের নাটক সাজিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে পরিকল্পিতভাবে এসব অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশনের ড্রেন ভাঙচুর, রাস্তার ক্ষতি এবং হোটেলের অবকাঠামোগত ক্ষতির বিষয়েও আরডিএকে পুনরায় লিখিতভাবে অবগত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা ও পাওনা টাকা উদ্ধারের দাবিতে বোয়ালিয়া মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়। পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘জায়েন্ট ফ্যামিলি প্রোপার্টিজ’-এর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তুহিন বলেন, আরডিএতে অভিযোগ দেওয়ার কারণে তার নির্মাণকাজ বন্ধ ছিল। পরে সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। কেন আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা হওয়ায় তখন মামলা করা হয়নি।
প্রতিষ্ঠানটির অপর অংশীদার আব্দুল সালাম তুহিনও স্বীকার করেন, হোটেলের ক্ষতিপূরণ বাবদ ২৬ লাখ ৩৩ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে বাকি টাকা পরিশোধ নিয়ে বিরোধ তৈরি হয় বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনাজুল হক অমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, নিজের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং তার বিরুদ্ধে চালানো মিথ্যা অপপ্রচারের প্রতিবাদ জানিয়ে সম্মান পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।