1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ঢাকার ১২টা বাজিয়েছে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৮:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রৌমারীতে ক্যান্সারে যুবকের মৃ ত্যু, অসহায় জীবন কাটছে এতিম শিশু ইমরানের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের স্বনির্ভর বাংলাদেশ বিনির্মানের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নিরন্তর অসহায় মানুষের আলো ফেরাতে ভেড়ামারায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা ও লেন্স সংযোজন শিবিরের উদ্বোধন নোয়াখালীতে জামায়াতকে নিয়ে মি থ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশে জেলা আমীরের বিবৃতি। চন্দনাইশে ধস নামল এলডিপিতে এমপি জসিমের নেতৃত্বে হাজারো নেতাকর্মীর বিএনপিতে যোগদান, রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে অলি আহমেদ চকরিয়ায় পুলিশের চিরুনি অভিযান মাদক ব্যবসায়ী ও সাজাপ্রাপ্ত আসামিসহ গ্রেফতার ১০ রংপুরে হামের উপসর্গে আরও এক শিশুর মৃত্যু বিভাগজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনক, হাসপাতালে শয্যা সংকট অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ঢাকার ১২টা বাজিয়েছে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম যুদ্ধবিরতির পরও থামেনি ড্রোন হামলা আরব আমিরাতের ফুজিরাহ তেল শোধনাগারে ইরানের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত ৩ ভারতীয় আহত খুলনা মফস্বল প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত নেতৃবৃন্দের পরিচিতি সভা ও প্রীতিভোজ অনুষ্ঠিত

ভিডিও সংবাদ 👇👇

অন্তর্বর্তী সরকার ১৮ মাসে ঢাকার ১২টা বাজিয়েছে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রভাতী বাংলাদেশ
  • প্রকাশিত: রবিবার, ১৭ মে, ২০২৬
  • ১৪ বার পড়া হয়েছে
জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রভাতী বাংলাদেশ

ঢাকা: সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের ১৮ মাসের শাসনামলে রাজধানী ঢাকা শহরের সার্বিক উন্নয়ন ও পরিবেশের চরম ক্ষতি করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নবনিযুক্ত প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি অভিযোগ করে বলেন, “পরিবেশ রক্ষার বড় বড় কথা বলে যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা ঢাকার কোনো উন্নয়ন তো করতেই পারেননি, উল্টো অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় শহরটাকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছেন। তারা এই ১৮ মাসে আমার প্রিয় ঢাকাকে অন্তত ১৮ বছর পিছিয়ে দিয়েছে। রোববার (১৭ মে, ২০২৬) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় অবস্থিত জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। ‘সমন্বিত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা: বন, পরিবেশ, নদী ও নগরায়ন’ শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।

বক্তব্যের শুরুতেই ডিএসসিসি প্রশাসক বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা উপদেষ্টার তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, “পরিবেশ নিয়ে যারা সুশীল সমাজে ও টকশোতে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন, তাদেরই একজনকে অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা করা হয়েছিল। আমরা আশা করেছিলাম তিনি মাঠপর্যায়ে কিছু করে দেখাবেন। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। তাদের নীতিহীন ও অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে আজ ঢাকা অবাসযোগ্য শহরের তালিকায় শীর্ষে চলে গেছে। ক্ষমতার চেয়ারে বসে মুখে বড় বড় কথা বলা খুব সহজ, কিন্তু বাস্তবে কাজ করাটা যে কতটা কঠিন, তা তারা প্রমাণ করে গেছেন। তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এই কঠিন পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করছেন। তিনি ইতোমধ্যে ঢাকার পরিবেশ ও যানজট নিরসনে নানামুখী যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। রাজধানীর বর্তমান নাজুক পরিস্থিতির চিত্র তুলে ধরে মো. আবদুস সালাম বলেন, “অপরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন সেবা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়হীনতা ও কার্যকর টেকসই উদ্যোগের অভাবের কারণেই আজ রাজধানীজুড়ে তীব্র ট্রাফিক জট, হকার সংকট, লাগামহীন বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণ এবং সীমাহীন নাগরিক দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। শুধু এসি রুমে বসে সেমিনার করলে বা পরিবেশের বুলি আওড়ালে সমস্যার সমাধান হবে না। মাঠপর্যায়ে নেমে কাজ করতে হবে।”

তিনি দেশের পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞদের সতর্ক করে দিয়ে বলেন, আমরা যদি এখনও বিশেষজ্ঞদের সঠিক মতামত ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ না করি, তবে অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বড় ধরণের পরিবেশগত ও নাগরিক সংকটে পড়বে। এই সংকট উত্তরণে দলমত নির্বিশেষে দেশের সকল স্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক নাগরিকদেরও কিছুটা দায়ী করেন। তিনি বলেন, “সব দোষ শুধু সিটি করপোরেশনের ওপর চাপালে চলবে না। এসব সংকট সৃষ্টির পেছনে নাগরিকদের অসচেতন আচরণ ও দায়িত্বহীনতাও অনেকাংশে দায়ী। আমরা যদি নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতাম, যেখানে সেখানে ময়লা ও প্লাস্টিক না ফেলতাম, তবে ঢাকার অর্ধেক সমস্যা এমনিতেই সমাধান হয়ে যেত। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ভাইরাসের প্রকোপ রোধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বর্তমান পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বর্ষা মৌসুমের আগেই আমরা ডিএসসিসি এলাকায় ১৫ দিনব্যাপী একটি বিশেষ ক্র্যাশ প্রোগ্রাম ও জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছি। আমাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেখছেন কোথায় মশার লার্ভা জন্ম নিচ্ছে বা নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ড্রেন ও ডোবাগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে।”

এই প্রসঙ্গে নিজের একটি সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে আবদুস সালাম বলেন, “সম্প্রতি আমি নিজে একটি পশু হাসপাতালের স্টাফ কোয়ার্টার পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। সেখানে কোয়ার্টারের ঠিক পাশেই পড়ে থাকা একটি ভাঙা টেলিভিশনের কভার ও মাটির পাত্রে জমে থাকা পানিতে প্রচুর পরিমাণে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের এই অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আপনারা নিজেদের বাড়িতে মশার ফ্যাক্টরি তৈরি করে রাখবেন, আর ডেঙ্গু হলে সিটি করপোরেশনকে গালি দেবেন—তা হতে পারে না। দেশের জনগণ যদি সচেতন হয়, তবে আগামী দুই বছরের মধ্যে ঢাকার চেহারা পুরোপুরি বদলে দেওয়া সম্ভব। আর জনগণ সহযোগিতা না করলে ২৫ বছরেও ঢাকার রূপান্তর সম্ভব নয়।”

বর্ষা এলেই ঢাকার রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ির চিরাচরিত কালচার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ডিএসসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, “ওয়াসা, তিতাস, ডিপিডিসি ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে কোনো সমন্বয় নেই। এক সংস্থা রাস্তা পিচ ঢালাই করার পরদিন অন্য সংস্থা এসে রাস্তা কেটে ফেলে। এই সমন্বয়হীনতার অবসান ঘটাতে আমরা ধানমন্ডি এলাকায় একটি আধুনিক পাইলট প্রকল্প চালু করেছি। এই প্রকল্পের অধীনে টেলিফোন, ইন্টারনেট, ডিশ ক্যাবলসহ সব ধরণের ইউটিলিটি সার্ভিস মাটির নিচ দিয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড ডাক্ট সিস্টেম) নেওয়া হচ্ছে। ধানমন্ডি সফল হলে পুরো ঢাকা শহরে এই ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “ভূমিদস্যুদের কারণে ঢাকার চারপাশের প্রাকৃতিক নদী, খাল ও জলপথগুলো ভরাট হয়ে গেছে। বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য অন্তত ১৫ থেকে ২০টি বড় আউটলেট বা ক্যানেলের মাধ্যমে পানি শীতলক্ষ্ম্যা ও বুড়িগঙ্গায় যাওয়ার স্বাভাবিক ব্যবস্থা সচল রাখা দরকার ছিল। কিন্তু পূর্ববর্তী সরকারগুলো তা করেনি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নিউমার্কেট, শান্তিনগর ও পুরান ঢাকার মতো নিচু এলাকায় দ্রুত হাঁটু পানি জমে যাচ্ছে।

নগরায়ণের চরম ত্রুটি তুলে ধরে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, “পুরান ঢাকাসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী আবাসিক এলাকা এখন সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক ও গোডাউনের এলাকায় পরিণত হয়েছে। যেখানে বড়জোড় ১৫ থেকে ২০ লাখ মানুষের বসবাসের কথা ছিল, সেখানে অপরিকল্পিতভাবে এখন কোটি মানুষ ঠাসাঠাসি করে বাস করছে। এর ফলে হকার ও যানজট সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। তিনি সড়কের ওপর চাপ কমাতে নদীপথ ও রেলপথকে আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “ঢাকার চারপাশের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, বালু ও তুরাগ নদীকে যদি দখলমুক্ত করে নৌপথ সচল করা যেত, এবং ঢাকার অভ্যন্তরীণ রেলপথ উন্নত করা যেত, তবে সড়কের ওপর থেকে ৭০ শতাংশ চাপ কমে যেত। এতে যানজট যেমন কমতো, ঠিক তেমনি পরিবেশ দূষণও অনেকাংশে হ্রাস পেতো। বর্তমান সরকার এই মহাপরিকল্পনা নিয়েই কাজ শুরু করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০
১১১২১৩১৪১৫১৬১৭
১৮১৯২০২১২২২৩২৪
২৫২৬২৭২৮২৯৩০৩১
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট