
মোহাম্মদ আরিফ, চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
চকরিয়া, কক্সবাজার: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের এক বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ১০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চকরিয়া থানা পুলিশের একাধিক টিম গত ২৪ ঘণ্টায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় পৃথক পৃথক ও ঝটিকা অভিযান চালিয়ে এই আসামিদের গ্রফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মাদক ব্যবসায়ী, নিয়মিত মামলার তালিকাভুক্ত আসামি এবং আদালতের দীর্ঘদিনের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক পরোয়ানাভুক্ত আসামিও রয়েছে। চকরিয়া থানা পুলিশের এই সাঁড়াশি অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন উপজেলার সাধারণ মানুষ ও সচেতন সুধীসমাজ।
চকরিয়া থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) বিশেষ নির্দেশনায় এবং জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার অংশ হিসেবে এই চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এর প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও দিকনির্দেশনায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এই বিশেষ অভিযান চলে। চকরিয়া থানার অপারেশন অফিসারের নেতৃত্বে পুলিশের চৌকস অফিসার এবং সঙ্গীয় ফোর্স এই অভিযানে অংশ নেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অপরাধীদের অবস্থান নিশ্চিত করে উপজেলার প্রত্যন্ত এবং দুর্গম এলাকাগুলোতেও পুলিশ একযোগে হানা দেয়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টার এই বিশেষ অভিযানে মোট ১০ জনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। অপরাধের ধরন অনুযায়ী তাদের গ্রেফতারের তালিকা নিচে তুলে ধরা হলো: ১. মাদক মামলায় গ্রেফতার: উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাদক বেচাকেনা ও কারবারের সাথে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে ৩ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ২. নিমিত মামলার আসামি: বিভিন্ন ফৌজদারি ও থানা পুলিশের নিয়মিত মামলায় জড়িত ৩ জন এজাহারনামীয় আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। ৩. সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত আসামি: আদালতের রায় হওয়ার পর দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে থাকা ২ জন সাজাপ্রাপ্ত পরোয়ানাভুক্ত (Warrant) আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে। ৪. অন্যান্য পরোয়ানাভুক্ত আসামি: বিভিন্ন মামলায় আদালতের সাধারণ পরোয়ানাভুক্ত (GR/CR Warrant) আরও ২ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
অভিযানে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হলেন— হারুন আমিন (২১), কাউসার বিবি (১৯), নাছিমা খাতুন (৬০), মো. মমতাজুল ইসলাম (৪২), জাফর আলম, সিরাজুল হক (৪৪), বশির আহমদ (৫২), জাহেদুল ইসলাম বাপ্পী (২৪), আবুল কাশেম (৫৫) এবং অপর একজন আবুল কাশেম। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া শেষে কক্সবাজার আদালতে প্রেরণ করার প্রস্তুতি চলছে।
চকরিয়া থানা পুলিশ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো ধরণের অপরাধী বা আইন অমান্যকারীকে চকরিয়ার মাটিতে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে চকরিয়া থানার আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় থাকা অপরাধচক্র, চিহ্নিত মাদক কারবারি, গভীর রাতে ডাকাতি বা চুরির উদ্দেশ্যে ওঁৎ পেতে থাকা ডাকাত দলের সক্রিয় সদস্য, পরোয়ানাভুক্ত ফেরারি আসামি, নিয়মিত মামলার পলাতক আসামি এবং বিভিন্ন মৎস্য ঘের ও চিংড়ি ঘোনা অবৈধভাবে দখলকারী চক্রের বিরুদ্ধে এই কঠোর অভিযান চালানো হচ্ছে। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন বাজার ও মোড়ে ভবঘুরে, কিশোর গ্যাং এবং ভাসমান বখাটেদের উৎপাত বন্ধেও পুলিশ নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষ রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারে এবং নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারে।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গণমাধ্যমকে জানান, “জেলা পুলিশ সুপারের কঠোর নির্দেশ রয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয়। চকরিয়ায় কোনো ধরণের সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী কিংবা ঘের দখলকারীদের আস্তানা গড়তে দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক রাখা, ডাকাতি রোধ এবং মাদক সংশ্লিষ্ট অপরাধ পুরোপুরি নির্মূল করার লক্ষ্যে চকরিয়া থানা পুলিশের এই বিশেষ ও সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত চলমান থাকবে।” তিনি উপজেলার শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধীদের তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহায়তা করার জন্য চকরিয়াবাসীর প্রতি আহ্বান জানান। পুলিশের এই ধারাবাহিক অভিযানের ফলে উপজেলার চিহ্নিত অপরাধীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।