
আশাদুজ্জামান (নেত্রকোণা)
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলায় এক মাস সাত দিন বয়সী এক নবজাতক শিশুকে কোল থেকে ছুড়ে ফেলে দিয়ে এক তরুণীকে (২৪) ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল রোববার (১৭ মে) সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টার মধ্যে উপজেলার কান্দিউরা ইউনিয়নের তেতুলিয়া সীমান্ত এলাকার কৈজানী নদীর ঘাট সংলগ্ন গিয়ালী খালের পাশে এই নৃশংস ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আজ সোমবার (১৮ মে) সকালে কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অভিযুক্ত মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়াকে (৬০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রউফ মদন উপজেলার নায়েকপুর ইউনিয়নের চন্দ্রতলা গ্রামের মৃত আমুর উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূর বাপের বাড়ি সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার নূরনগর গ্রামে। গত এক বছর আগে নেত্রকোণার মদন উপজেলার নায়েকপুর গ্রামের মতি মিয়ার ছেলে রিপন মিয়ার (৩০) সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে তাঁর বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক মাস সাত দিন বয়সী একটি নবজাতক সন্তান রয়েছে। তবে গত ১৫ মে যৌতুক সংক্রান্ত বিরোধের জেরে স্বামী রিপন মিয়া ওই তরুণীকে একতরফা ডিভোর্স দেন।
ডিভোর্সের পর গতকাল বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ভুক্তভোগী তরুণী তাঁর সন্তানকে নিয়ে নেত্রকোণা থেকে সিরাজগঞ্জে বাবার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে কৈজানী নদী পার হয়ে কেন্দুয়া থানার তেতুলিয়া ঘাটে এসে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। এ সময় ঘাটের মুদি দোকানদার আব্দুর রউফ মিয়া তাকে রাতে তাঁর বাড়িতে থেকে পরদিন সকালে যাওয়ার পরামর্শ দেন।
সরল বিশ্বাসে ওই নারী রউফের কথায় রাজি হয়ে মালামাল ও সন্তানসহ রওনা দিলে রউফ তাকে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে রউফ তাকে কুপ্রস্তাব দেন এবং ধর্ষণের চেষ্টা করেন। তরুণী বাধা দিলে রউফ তাঁর সাথে থাকা দেশীয় অস্ত্র ‘রামদা’ বের করে ভয়ভীতি দেখান এবং কোল থেকে ১ মাস ৭ দিনের দুধের শিশুকে টেনে নিয়ে পাটক্ষেতে ছুড়ে ফেলে দেন। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নদীর ঘাটে বড়শি দিয়ে মাছ ধরতে আসা এক ব্যক্তির উপস্থিতি টের পেয়ে ভুক্তভোগী নারী কোনোমতে দৌড়ে পালিয়ে আত্মরক্ষা করেন।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে চিরাং ইউনিয়নের সাজিউড়া বাজারে এসে ওই নারী চিৎকার ও কান্নাকাটি শুরু করলে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসেন। পুরো ঘটনা শোনার পর স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং দীর্ঘ ১ ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের তল্লাশি শেষে পাটক্ষেত থেকে জীবিত অবস্থায় কান্নারত নবজাতক শিশুটিকে উদ্ধার করেন।
খবর পেয়ে কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পুলিশ ফোর্সসহ দ্রুত সাজিউড়া বাজারে উপস্থিত হন। পুলিশ ভুক্তভোগী মা ও শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।
আজ সকালে কেন্দুয়া ও মদন থানা পুলিশের যৌথ ও সাঁড়াশি অভিযানে অবশেষে লম্পট আব্দুর রউফকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
কেন্দুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, অপরাধীকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে আসামিকে গ্রেপ্তার করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।