
“রামিছার বিচার চাই, ধর্ষকের ফাঁসি চাই” স্লোগানে উত্তাল আলীকদম
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় ৭ বছর বয়সী শিশু রামিছা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার প্রতিবাদে এবং সারা দেশে সংঘটিত সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (২২ মে ২০২৬) জুমা’আর নামাজের পর “আলীকদম ছাত্র-জনতা” ব্যানারে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
বিক্ষোভ মিছিলটি আলীকদম বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে বাজার প্রাঙ্গণে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
এ সময় পুরো এলাকা “রামিছার বিচার চাই”, “ধর্ষকের ফাঁসি চাই”, “নারী-শিশু নির্যাতন বন্ধ করো”— এমন নানা স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে। অংশগ্রহণকারীরা ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও শিশু হত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ছাত্রনেতা আনোয়ারুল ইসলাম মামুন, International Islamic University Chittagong-এর প্রভাষক মু. রেজাউল করিম, ছাত্রনেতা কালাম ফেরদৌস ইসফাক, University of Dhaka-এর শিক্ষার্থী ও অ্যাক্টিভিস্ট রিয়াজুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা আরাফাত।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রায়হান উদ্দীন।
বক্তারা বলেন, শিশু রামিছার মতো নিষ্পাপ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করার ঘটনা পুরো জাতির জন্য লজ্জাজনক ও হৃদয়বিদারক। তারা অভিযোগ করেন, দেশে একের পর এক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা ঘটলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিচার দীর্ঘসূত্রতায় পড়ে যায়।
ফলে অপরাধীরা দ্রুত শাস্তির আওতায় না আসায় সমাজে বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হচ্ছে।
বক্তব্যে ছাত্রনেতা আনোয়ারুল ইসলাম মামুন বলেন,
“আমি জাতীয়তাবাদী রাজনীতি করি। আজ এখানে দাঁড়িয়েছি সরকার কিংবা রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়, ধর্ষক ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
আমরা কথা বলছি সেই রাষ্ট্রব্যবস্থার বিরুদ্ধে, যেখানে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় জড়িত আসামিরা দ্রুত শাস্তির আওতায় আসে না।”
বক্তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রের আইনি দায়বদ্ধতা হলো নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
জনগণের স্বার্থে প্রচলিত আইনের প্রয়োজনীয় সংস্কার করে ধর্ষণ ও শিশু হত্যা মামলাগুলোর দ্রুত বিচার সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সমাবেশ থেকে শিশু রামিছাসহ সকল ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ধর্ষকদের প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবিও জানানো হয়।