
ধামরাই উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা, নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলেছেন, ধামরাই এর রাজনৈতিক সমীকরণে এবার নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে জামায়াতের এ সিদ্ধান্ত।
তথ্য অনুযায়ী, ধামরাইয়ে জামায়াতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় এবং সাংগঠনিকভাবে পরিচিত মুখ মাওলানা কাজী আব্দুর রউফকে সামনে রেখে মাঠ গোছাচ্ছে দলটি। এর আগে ঢাকা-২০ আসনের জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে ও তাকে দলীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে প্রচারণায় দেখা গেছে।
দলীয় সূত্র জানায়, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে আরো শক্তিশালী করা, সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোকে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে জামাতে ইসলামী। ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সভা-সমাবেশ, গণসংযোগ এবং মত বিনিময় সভা ও চালিয়ে যাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা।
জামায়াত নেতারা দাবি করছেন, ধামরাইয়ে সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন এবং জনবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করাই তাদের মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও প্রচারণা জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ধামরাইয়ে বিএনপি, আওয়ামী লীগ ও অন্যান্য রাজনৈতিক শক্তির পাশাপাশি জামায়াতও এবার নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে চাইছে। বিশেষ করে জাতীয় নির্বাচন ঘিরে সারা দেশে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা ও রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ার প্রভাব স্থানীয় রাজনীতিতে ও পড়ছে।
তবে স্থানীয় ভোটারদের একাংশ বলছেন, শুধুমাত্র প্রার্থী ঘোষণা নয়, মাঠ পর্যায়ে জনসম্পৃক্ততা এবং উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তব উপস্থাপনাই হবে নির্বাচনে বড় চ্যালেঞ্জ। ধামরায়ের রাস্তাঘাট, জলাবদ্ধতা, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের মত ইস্যুগুলোই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয়-জামায়াতের প্রার্থী কতটা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তুলতে পারবেন এবং স্থানীয় ভোটের সমীকরণে কতটা প্রভাব ফেলবেন। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে, ধামরাইয়ের রাজনৈতিক মাঠ ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।