
জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে সচেতনতা, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা ও চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে গুরুত্বারোপ
ফেনী, ২৫ মে ২০২৬ঃ
পবিত্র ঈদ-উল-আজহা ২০২৬ উপলক্ষে কোরবানিকৃত পশুর চামড়া যথাযথভাবে সংরক্ষণ, সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণ নিশ্চিত করতে আজ সোমবার ফেনী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন ফেনী জেলার মান্যবর জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিজ্ মনিরা হক।
সভায় জেলার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিবৃন্দ, পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগণ, মাদ্রাসা প্রতিনিধি, এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সদস্য, চামড়া ব্যবসায়ী, আড়তদার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজন উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ মনিরা হক বলেন, ঈদ-উল-আজহাকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করা হয়। যথাযথ সংরক্ষণের অভাব, অসচেতনতা এবং সময়মতো লবণ প্রয়োগ না করায় অনেক সময় চামড়ার গুণগত মান নষ্ট হয়ে যায়। ফলে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়, অন্যদিকে দেশের চামড়া শিল্পও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তিনি চামড়া সংরক্ষণে সংশ্লিষ্ট সকলকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত নির্দেশনা অনুযায়ী চামড়া সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও পরিবহন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। বিশেষ করে এতিমখানা ও মাদ্রাসাভিত্তিক চামড়া সংগ্রহ কার্যক্রমে যেন কোনো ধরনের অনিয়ম বা সিন্ডিকেট তৈরি না হয় সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে। চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও তিনি আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় বক্তারা বলেন, কোরবানির পরপরই চামড়ায় পর্যাপ্ত পরিমাণ লবণ ব্যবহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক নিয়মে চামড়া মাটিতে না ফেলে পরিষ্কার স্থানে সংরক্ষণ এবং দ্রুত আড়তে পৌঁছানোর বিষয়ে সাধারণ জনগণকে সচেতন করতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রচারণা কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভায় আরও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, ঈদের আগে জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সচেতনতামূলক ব্যানার ও মাইকিং কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ইমাম ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।
চামড়া পরিবহন ও বাজারজাতকরণে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অবৈধ দখলদারিত্ব রোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এছাড়া ঈদের দিন ও পরবর্তী সময়ে প্রশাসনের মনিটরিং টিম মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকবে বলেও সভায় জানানো হয়।
সভা শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা কামনা করে বলেন, “সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে কোরবানির পশুর চামড়া সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে দেশের চামড়া শিল্প আরও সমৃদ্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষও ন্যায্যমূল্য থেকে উপকৃত হবে।”