
মাদারীপুর জেলার শিবচরে যথাযোগ্য মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং বিপুল রাজনৈতিক উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত হয়েছে। “স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও উন্নয়ন ভাবনায় জিয়া” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে শিবচর উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং এর সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে শুক্রবার দুপুরে এক বিশাল আলোচনা সভা, স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। পৌরসভার ঐতিহ্যবাহী আম্বিয়া হাকিমীয়া দারুল উলূম এতিমখানা মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক দর্শন ও দেশের উন্নয়নে তাঁর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করা হয়।
শুক্রবার সকাল থেকেই শিবচর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন, ওয়ার্ড এবং পৌরসভার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মী ও সাধারণ সমর্থক ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে সভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। দুপুরের মধ্যেই আম্বিয়া হাকিমীয়া দারুল উলূম এতিমখানা মাদরাসা মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে এক বিশাল জনসমাবেশে রূপ নেয়। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় নেতাকর্মীদের চাঙ্গা করতে এবং শহীদ জিয়ার আদর্শকে ছড়িয়ে দিতে এই আয়োজনটি বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অত্যন্ত দিকনির্দেশনামূলক ও বলিষ্ঠ বক্তব্য রাখেন মাদারীপুর-২ আসনের জনপ্রিয় সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির বিপ্লবী সদস্য সচিব জাহান্দার আলী মিয়া। তিনি তাঁর বক্তব্যের শুরুতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রাজনীতির অন্যতম প্রধান পথপ্রদর্শক। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠায় তাঁর ঐতিহাসিক অবদান এদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। যখনই জাতি কোনো সংকটে পড়েছে, জিয়াউর রহমান ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর দেওয়া ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিশেহারা জাতিকে মুক্তির সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়তে ঐক্যবদ্ধ করেছিল এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মজবুত ভিত্তি নির্মাণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।”
তিনি আরও যোগ করেন, “জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা, রাজনৈতিক স্বাধীনতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রশ্নে জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা দর্শন আজও সমসাময়িক ও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। দেশের টেকসই উন্নয়ন ও সাধারণ মানুষের কল্যাণে তাঁর গৃহীত খাল খনন কর্মসূচি, সবুজ বিপ্লবসহ বিভিন্ন দূরদর্শী উদ্যোগ এখনো জনগণের কাছে অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে রয়েছে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাহান্দার আলী মিয়া কেবল অতীতেরই স্মৃতিচারণ করেননি, পাশাপাশি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের প্রসঙ্গও জনসমক্ষে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্বল্প সময়ের মধ্যেই দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে সরকার নানা কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বিশেষ করে কৃষি খাতের আধুনিকায়ন, শিক্ষার প্রসার, প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী জোরদার করা এবং কার্যকর পানি ব্যবস্থাপনায় নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এই কর্মসূচিগুলো মাঠ পর্যায়ে দ্রুত বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং দেশ একটি সুশাসনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।”
স্মরণ সভায় প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা বিএনপির সম্মানিত আহ্বায়ক, প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব অ্যাডভোকেট জাফর আলী মিয়া। তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, শহীদ জিয়ার আদর্শের সৈনিকেরা কখনো অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে না। রাজপথের প্রতিটি আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শিবচর উপজেলা বিএনপির সম্মানিত আহ্বায়ক শাহাদাত হোসেন খানের সভাপতিত্বে এবং অত্যন্ত দক্ষ সদস্য সচিব সোহেল রানার সুনিপুণ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মুরাদ এবং মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনে বিএনপির মনোনীত জনপ্রিয় প্রার্থী নাদিরা আক্তার। নাদিরা আক্তার তাঁর বক্তব্যে শিবচরের মাটিতে বিএনপির সাংগঠনিক অবস্থান আরও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এছাড়াও সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন—
উপজেলা বিএনপির বিশিষ্ট যুগ্ম আহ্বায়ক জহের গোমস্তা
কেন্দ্রীয় যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকী
উপজেলা বিএনপির অন্যতম সক্রিয় সদস্য মোতাহের হাওলাদার
পৌর বিএনপির দূরদর্শী আহ্বায়ক আবুল কালাম মল্লিক
সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হেমায়েত হোসেন খান
পৌর বিএনপির সদস্য সচিব আজমল হোসেন খান সেলিম
বক্তারা সকলেই তৃনমূল পর্যায় থেকে বিএনপিকে আরও সুসংগঠিত করার এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
দীর্ঘ আলোচনা সভা শেষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় এক বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। মোনাজাতে উপস্থিত শত শত নেতাকর্মী ও মাদরাসার এতিম শিশুরা অশ্রুসিক্ত নয়নে আল্লাহর দরবারে হাত তোলেন। মোনাজাত শেষে উপস্থিত সকলের মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে দুপুরের এই সফল ও বর্ণাঢ্য কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।