
আগামী ১৪ জুন ২০২৬ ইং, রোজ রবিবার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারম্যান জননেতা জনাব তারেক রহমানের চকরিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী পৌর বাস টার্মিনালস্থ মাঠে এক বিশাল জনসভায় শুভাগমনের দিন ধার্য করা হয়েছে। দেশের সরকারপ্রধান এবং দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন শেষে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত নতুন প্রধানমন্ত্রীর এই চকরিয়া সফরকে ঘিরে সমগ্র কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম জেলাজুড়ে এক অভূতপূর্ব জাগরণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই ঐতিহাসিক জনসভাকে সর্বাত্মকভাবে সফল, শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনালস্থ জনসভার মাঠের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শনে আসেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মঞ্জুর মোরশেদসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং জেলা ও উপজেলা বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর চকরিয়া সফরকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠ পরিদর্শনে অংশ নেন কক্সবাজারের নবাগত জেলা প্রশাসক (ডিসি) জনাব আব্দুল মান্নান এবং কক্সবাজার জেলার সুযোগ্য পুলিশ সুপার (এসপি) জনাব সাজেদুর রহমান। কর্মকর্তাদের এই বিশেষ পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) জনাব শাহিন দেলোয়ার, চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব রুপায়ন দেব, কক্সবাজার জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জনাব অহিদুর রহমান এবং চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মনিরুল ইসলাম।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দেশের সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে চকরিয়াসহ পুরো কক্সবাজার জেলাকে নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে। জনসভাস্থলে ভিআইপিদের যাতায়াত, মঞ্চ নির্মাণ, সাধারণ মানুষের প্রবেশ ও বাহির হওয়ার পথ এবং জরুরি আপদকালীন ব্যবস্থার জন্য ট্রাফিক ও নিরাপত্তা বলয় নির্ধারণ করতে প্রশাসনের টিম মাঠের চারপাশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব জনাব মঞ্জুর মোরশেদ স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগকে প্রয়োজনীয় নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন এবং জনসভাস্থল সম্পূর্ণ নিরাপদ ও শৃঙ্খলার মধ্যে রাখার জন্য বিশেষ তাগিদ দেন।
প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের এই পরিদর্শনকালে স্বরাষ্ট্র সচিব ও জেলা প্রশাসনের টিমকে সার্বিক সহযোগিতা করতে এবং জনসভার মাঠের প্রস্তুতি তুলে ধরতে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সংগ্রামী সভাপতি জনাব এনামুল হক এবং চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সফল সভাপতি ও বিশিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মিজানুর রহমান চৌধুরী (খোকন মিয়া)। এছাড়াও মাঠে তৃণমূলের প্রস্তুতি তদারকি করতে উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. আব্দুর রহিম, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আমিন কমিশনারসহ উপজেলা, পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শুধু চকরিয়া পৌরসভা বা উপজেলাই নয়, এই জনসভায় পেকুয়া, রামু, উখিয়া, টেকনাফ, কুতুবদিয়া এবং পার্শ্ববর্তী চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলা থেকেও লাখ লাখ মানুষের ঢল নামবে। দেশের প্রথম সারির শীর্ষ নেতারাও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে এই মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন। মাঠ পরিদর্শনের সময় দলীয় নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের আশ্বস্ত করেন যে, বিএনপির শৃঙ্খলা কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকরা পুলিশ প্রশাসনের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে জনসভাস্থলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সর্বোচ্চ সতর্ক ভূমিকা পালন করবে।
মাঠ পরিদর্শনের পর চকরিয়া পৌর বাস টার্মিনাল এলাকায় স্থানীয় প্রশাসন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং বিএনপি নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে এক উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় ও প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় জনসভা সফল ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সার্বিক প্রস্তুতি ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ টেকনিক্যাল দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সভায় প্রধান আলোচনার বিষয় ছিল—
মঞ্চের আকার ও অবস্থান: জনসভার মূল মঞ্চটি কোথায় এবং কত বড় পরিসরে তৈরি করা হবে, যাতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ সহজেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে পান।
ভিআইপি ও ভিভিআইপি নিরাপত্তা: প্রধানমন্ত্রীর কঠোর রাষ্ট্রীয় প্রটোকল বজায় রেখে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ও বিদেশি অতিথিদের বসার আসন এবং মঞ্চের চতুর্মুখী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
যানবাহন পার্কিং ও ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ: চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক সচল রেখে চকরিয়া বাস টার্মিনালে আসা বিভিন্ন যানবাহনের জন্য পৃথক ও সুনির্দিষ্ট পার্কিং জোনের ব্যবস্থা করা, যেন সাধারণ যাত্রীদের কোনো ভোগান্তি না হয়।
চিকিৎসা ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা: চকরিয়া ও এর আশপাশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা তীব্র গরমের মধ্যে লাখ লাখ জনসাধারণের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় পানি, ওয়াশ ব্লক এবং জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য মেডিকেল টিম ও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখা।
দীর্ঘ বছর পর দেশের কোনো নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী ও প্রিয় নেতার চকরিয়া আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগণের মাঝে আনন্দের জোয়ার বইছে। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি জনাব এনামুল হক বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেতা তারেক রহমানের এই আগমন দক্ষিণ চট্টগ্রামের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্তের উন্মোচন করবে। আমরা চকরিয়া-পেকুয়াবাসী অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের প্রিয় নেতা আমাদের মাঝে আসছেন। এটি কেবল একটি জনসভা নয়, এটি হবে লাখো জনতার এক ঐতিহাসিক সমুদ্র।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে পোশাকি ও সাদা পোশাকে কয়েক স্তরের বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং কোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা বা অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ ২৪ ঘণ্টা তৎপর থাকবে। আগামী ১৪ জুনের এই মহাসমাবেশ যেন দেশের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হিসেবে ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারে, সেজন্য দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোগিতা কামনা করেছে চকরিয়া উপজেলা ও পৌরসভা বিএনপি।