
আধুনিক প্রযুক্তিতে হাইব্রিড ধানের বাম্পার ফলনের বার্তা, নাগেশ্বরীতে ব্র্যাক সিডের কৃষক কর্মশালা
আব্দুল ওয়াহাব, স্টাফ রিপোর্টার,কুড়িগ্রাম।
৭ জুন ২০২৬ হাইব্রিড ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কৃষকদের আধুনিক চাষাবাদে উৎসাহিত করতে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ব্র্যাক সিডের উদ্যোগে এক কৃষক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উন্নত জাতের ধানবীজের ব্যবহার, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির প্রয়োগ এবং অধিক ফলন নিশ্চিত করার বিভিন্ন কৌশল নিয়ে আয়োজিত এ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা অংশগ্রহণ করেন।
রবিবার (৭ জুন) সকাল ১১টায় নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ বাজারস্থ মেজর মার্কেট হলরুমে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালায় প্রায় অর্ধশতাধিক কৃষক উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাক সিড কুড়িগ্রামের টেরিটরি সেলস অফিসার (টিএসও) মাহবুব আলম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ব্র্যাক সিডের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক মো. রশীদুল ইসলাম।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভুরুঙ্গামারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল জব্বার। তিনি বলেন, আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি এবং উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে। কৃষকদের সময়োপযোগী প্রযুক্তি গ্রহণের পাশাপাশি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
কর্মশালায় ব্র্যাক সিডের জনপ্রিয় হাইব্রিড ধানবীজ ‘রাজা’, ‘মুক্তি-১’ ও ‘ব্র্যাক ধান-১’-এর বৈশিষ্ট্য, ফলন সক্ষমতা, রোগ ও পোকামাকড় প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং সঠিক চাষাবাদ পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত উপস্থাপনা করা হয়। এছাড়া জমি প্রস্তুতকরণ থেকে শুরু করে পরিচর্যা, সুষম সার ব্যবস্থাপনা এবং ফলন বৃদ্ধির আধুনিক কৌশল নিয়েও আলোচনা হয়।
বক্তারা বলেন, ক্রমবর্ধমান খাদ্য চাহিদা পূরণ এবং কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করতে উন্নতমানের বীজ ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। সঠিক পরিচর্যা ও প্রযুক্তিনির্ভর কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে হাইব্রিড ধানের অধিক ফলন অর্জন সম্ভব বলেও তারা মত প্রকাশ করেন।
আলোচনা পর্বে কৃষকেরা ধান চাষের নানা সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। এ সময় উপস্থিত কৃষি কর্মকর্তা ও ব্র্যাক সিডের প্রতিনিধিরা কৃষকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা কৃষকদের মধ্যে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি ও উন্নত জাতের ধানবীজ ব্যবহারে সচেতনতা বাড়াবে এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।