
ফারইস্ট লাইফ ইনস্যুরেন্সের আত্মসাৎকৃত অর্থ উদ্ধার এবং নজরুল-হেমায়েত চক্রের বিচার দাবিতে মানববন্ধন।
মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম ঢাকা জেলা প্রতিনিধি।
ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে এর কথিত অর্থ আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার এবং এ ঘটনায় অভিযুক্ত নজরুল-হেমায়েত চক্রের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছে ক্ষতিগ্রস্ত বীমা গ্রাহক,সুবিধাবঞ্চিত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
রবিবার (০৭ জুন) ঢাকার সিএমএম আদালত প্রাঙ্গণে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে শতাধিক ভুক্তভোগী অংশ নেন।
তারা ব্যানার ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের দাবী জানান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার আহবান জানান।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী চক্র প্রতিষ্ঠানটির অর্থনৈতিক কাঠামোকে দুর্বল করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করেছে। এর ফলে সাধারণ বীমা গ্রাহকরা তাদের প্রাপ্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
তারা আরও বলেন, নজরুল-হেমায়েত চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে দেশের আর্থিক খাতে কেউ এ ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সাহস না পায়। একই সঙ্গে আত্মসাৎকৃত অর্থ দ্রুত উদ্ধার করে গ্রাহকদের ন্যায্য পাওনা ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।
উল্লেখ্য,একই দিনে ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা মামলা আদালতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) দাখিলকৃত অভিযোগ পত্রের শুনানির দিন ধার্য ছিল। এর আগে চলতি বছরের ১৫ ফেব্রুয়ারী মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহ মিনহাজ উদ্দিন আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। এতে কোম্পানির সাবেক চেয়ারম্যান মোঃ নজরুল ইসলাম ও সাবেক সিইও মোঃ হেমায়েত উল্লাহসহ মোট ২৪ জনকে আসামি করা হয়।
এরও আগে ২০২২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর ফারইস্ট ইসলামী লাইফ ইনস্যুরেন্সের আইন কর্মকর্তা মোঃ জসিম উদ্দিন বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় ১৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে মামলাটি ডিবি (ডিএমপি)তদন্ত করে।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন,এই মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি ও দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হলে দেশের বীমা খাতে স্বচ্ছতা ফিরে আসবে এবং সাধারণ মানুষের আস্হা পুনরুদ্ধার হবে।একই সঙ্গে তারা আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখবে এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে।
এছাড়া জানা যায়, নজরুল-হেমায়েত চক্রের বিরুদ্ধে এ মামলার বাইরে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদুক) আরও সাতটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে,যা বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।