1. dailyprobatibangladesh@gmail.com : daily probati bangladesh : daily probati bangladesh
  2. live@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
  3. info@www.dailyprobatibangladesh.com : দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ :
ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত নিহত অন্তত ১৫, ধসে পড়েছে বহু ভবন, সুনামি সতর্কতা জারি - দৈনিক প্রভাতী বাংলাদেশ
রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বগুড়ায় বিদ্যুতায়িত তারে শক লেগে গাভীর মৃ ত্যু, থানায় অ ভি যোগ। সাপাহারে আম বিপণন ও বাজারজাতকরণ সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহীতে চারা রোপণ জবই বিলে বৃক্ষরোপণ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান অনুষ্ঠিত বাসাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বাসাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বাসাইলে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বৃষ্টিস্নাত সকালে পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পৌঁছে বিমানবন্দর থেকেই নিজ হাতে গাড়ির স্টিয়ারিং ধরেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চট্টগ্রাম লোহাগাড়ায় বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধন। টাঙ্গাইল সদরে মাদকবিরোধী টাস্কফোর্স অভিযান, ৩ জনকে কারাদণ্ড

ভিডিও সংবাদ 👇👇

ফিলিপাইনে ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত নিহত অন্তত ১৫, ধসে পড়েছে বহু ভবন, সুনামি সতর্কতা জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬
  • ২৭ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে সোমবার (৮ জুন) সকালে এক প্রলয়ংকরী ও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭.৮, যার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শক্তিশালী এই ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রশাসন। মাটির নিচে তীব্র কম্পনের ফলে মিন্দানাও দ্বীপের বহু বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকেই চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকারী দলগুলো। বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সকসসারজেন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি

ফিলিপাইন সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সোমবারের এই ভূমিকম্পে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সম্মানিত পরিচালক রদ্রিগো সসমিনা এক জরুরি বিবৃতিতে জানান, দেশের সকসসারজেন (SOCCSKSARGEN) অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলটি মূলত ফিলিপাইনের চারটি বড় প্রদেশ এবং একটি জনবহুল শহর জুড়ে বিস্তৃত। বিস্তীর্ণ এই পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মানুষের পক্ষে নিজেদের ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

পরিচালক রদ্রিগো সসমিনা আরও যোগ করেন, ভূমিকম্পের কারণে সকসসারজেন ও এর আশেপাশের অঞ্চলে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২৯ জন। আহতদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত মানুষদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পের মাত্রা ও তীব্রতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) এই ভূমিকম্পের সার্বিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মূল তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৮। জিএফজেড এর ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূপৃষ্ঠের এত কাছাকাছি গভীরতায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কম্পনের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা বা ম্যাগনিচিউড নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার (জিএফজেড) প্রথম দিকে তাদের প্রাথমিক বুলেটিংয়ে এই ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৮ দশমিক ২ বলে উল্লেখ করেছিল, যা পরবর্তীতে সংশোধন করে ৭.৮ করা হয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের নিজস্ব ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক সংস্থা ‘ফিভলকস’ (PHIVOLCS) জানায়, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭। আবার প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) তাদের সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের হিসাব অনুযায়ী ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৭ দশমিক ৭ বলে উল্লেখ করেছে। তবে মাত্রা যাই হোক না কেন, কম্পনের স্থায়িত্ব এবং গভীরতা বেশি থাকায় এটি মিন্দানাও দ্বীপে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে জেনারেল সান্তোস শহর

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত ফিলিপাইনের জেনারেল সান্তোস শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের আইনশৃঙখলা রক্ষা ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট দাগোন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, “ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চোখের পলকে অনেক বড় বড় বাণিজ্যিক ভবন এবং আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমি এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে সব ভবনের নাম বা সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা বলতে পারছি না। কারণ, আমাদের পুরো পুলিশ বাহিনী এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এই মুহূর্তে জীবিত মানুষদের উদ্ধারকাজ নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন।”

মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট দাগোন অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আরও বলেন, “শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ ও শহরতলীর সাধারণ মানুষের কিছু কাঁচা এবং আধাপাকা বাড়িও মাটির সাথে মিশে গেছে। আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্রন্দনরত মানুষের আওয়াজ পাচ্ছি এবং আধুনিক হাইড্রোলিক কাটার ও ক্রেন দিয়ে কংক্রিট সরিয়ে তাদের বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি আতঙ্ক

সোমবার সকালের এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইনের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা। সমুদ্রের তলদেশে মাটির প্লেটের বড় ধরনের স্থানচ্যুতির কারণে বিশাল উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফিলিপাইনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থাও তাদের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে এবং জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই ভূমিকম্পের সুনামি ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থাও (US Tsunami Warning System) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই ভূমিকম্পের পর সুনামির মারাত্মক ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইন সরকার। উপকূলীয় অঞ্চলে সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে, যার ফলে পুরো মিন্দানাও দ্বীপজুড়ে এক হৃদয়বিদারক ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও রেড ক্রসের শত শত কর্মী উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মিন্দানাও দ্বীপে সোমবার (৮ জুন) সকালে এক প্রলয়ংকরী ও শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। রিখটার স্কেলে এর তীব্রতা ছিল ৭.৮, যার ফলে পুরো অঞ্চলজুড়ে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শক্তিশালী এই ভূকম্পনে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে দেশটির প্রশাসন। মাটির নিচে তীব্র কম্পনের ফলে মিন্দানাও দ্বীপের বহু বহুতল ভবন, বাণিজ্যিক কেন্দ্র এবং সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি হুড়মুড় করে ধসে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকেই চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যার ফলে নিহতের সংখ্যা আরও অনেক বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকারী দলগুলো। বিশ্বখ্যাত গণমাধ্যম বিবিসির এক বিশেষ প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। ফিলিপাইনের সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়াসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যা স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

সকসসারজেন অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি

ফিলিপাইন সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের স্থানীয় কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সোমবারের এই ভূমিকম্পে দেশের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্যগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিভিল ডিফেন্স কার্যালয়ের সম্মানিত পরিচালক রদ্রিগো সসমিনা এক জরুরি বিবৃতিতে জানান, দেশের সকসসারজেন (SOCCSKSARGEN) অঞ্চলে এখন পর্যন্ত ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এই অঞ্চলটি মূলত ফিলিপাইনের চারটি বড় প্রদেশ এবং একটি জনবহুল শহর জুড়ে বিস্তৃত। বিস্তীর্ণ এই পাহাড়ি ও সমতল অঞ্চলে ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, মানুষের পক্ষে নিজেদের ঘর থেকে বের হওয়ার সুযোগ ছিল অত্যন্ত সীমিত।

পরিচালক রদ্রিগো সসমিনা আরও যোগ করেন, ভূমিকম্পের কারণে সকসসারজেন ও এর আশেপাশের অঞ্চলে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১২৯ জন। আহতদের অনেকেরই অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। স্থানীয় হাসপাতালগুলোতে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে এবং রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত মানুষদের দ্রুত চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য বিশেষ মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। দুর্গম অঞ্চলের সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উদ্ধারকারী দলগুলোর পৌঁছাতে কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে।

ভূমিকম্পের মাত্রা ও তীব্রতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের পর্যবেক্ষণ

জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস (জিএফজেড) এই ভূমিকম্পের সার্বিক তথ্য ও উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পের মূল তীব্রতা ছিল ৭ দশমিক ৮। জিএফজেড এর ভূবিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের মাত্র ১০ কিলোমিটার গভীরে। ভূপৃষ্ঠের এত কাছাকাছি গভীরতায় ভূমিকম্পের উৎপত্তি হওয়ার কারণেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং কম্পনের তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।

তবে এই ভূমিকম্পের তীব্রতা বা ম্যাগনিচিউড নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংস্থার তথ্যে কিছুটা ভিন্নতা দেখা গেছে। জার্মান রিসার্চ সেন্টার (জিএফজেড) প্রথম দিকে তাদের প্রাথমিক বুলেটিংয়ে এই ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৮ দশমিক ২ বলে উল্লেখ করেছিল, যা পরবর্তীতে সংশোধন করে ৭.৮ করা হয়। অন্যদিকে, ফিলিপাইনের নিজস্ব ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরি বিষয়ক সংস্থা ‘ফিভলকস’ (PHIVOLCS) জানায়, রিখটার স্কেলে এই ভূমিকম্পটির তীব্রতা ছিল ৭। আবার প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা (বিএমকেজি) তাদের সিসমোগ্রাফ যন্ত্রের হিসাব অনুযায়ী ভূমিকম্পটির তীব্রতা ৭ দশমিক ৭ বলে উল্লেখ করেছে। তবে মাত্রা যাই হোক না কেন, কম্পনের স্থায়িত্ব এবং গভীরতা বেশি থাকায় এটি মিন্দানাও দ্বীপে বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে এনেছে।

ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে জেনারেল সান্তোস শহর

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থিত ফিলিপাইনের জেনারেল সান্তোস শহরটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। শহরের আইনশৃঙখলা রক্ষা ও উদ্ধারকাজে নিয়োজিত পুলিশের মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট দাগোন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে বর্তমান পরিস্থিতি বর্ণনা করে বলেন, “ভূমিকম্পের তীব্রতা এতটাই ভয়াবহ ছিল যে চোখের পলকে অনেক বড় বড় বাণিজ্যিক ভবন এবং আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিন্তু আমি এই মুহূর্তে সুনির্দিষ্টভাবে সব ভবনের নাম বা সঠিক ক্ষয়ক্ষতির তালিকা বলতে পারছি না। কারণ, আমাদের পুরো পুলিশ বাহিনী এবং সিভিল ডিফেন্সের সদস্যরা এই মুহূর্তে জীবিত মানুষদের উদ্ধারকাজ নিয়ে চরম ব্যস্ত সময় পার করছেন।”

মাস্টার সার্জেন্ট রবার্ট দাগোন অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে আরও বলেন, “শহরের কেন্দ্রস্থলে বেশ কয়েকটি বহুতল ভবন সম্পূর্ণ ধসে পড়েছে। এ ছাড়া গ্রামীণ ও শহরতলীর সাধারণ মানুষের কিছু কাঁচা এবং আধাপাকা বাড়িও মাটির সাথে মিশে গেছে। আমরা ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ক্রন্দনরত মানুষের আওয়াজ পাচ্ছি এবং আধুনিক হাইড্রোলিক কাটার ও ক্রেন দিয়ে কংক্রিট সরিয়ে তাদের বের করে আনার চেষ্টা চালাচ্ছি।”

ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়ায় সুনামি আতঙ্ক

সোমবার সকালের এই শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইনের সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করেছে দেশটির ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থা। সমুদ্রের তলদেশে মাটির প্লেটের বড় ধরনের স্থানচ্যুতির কারণে বিশাল উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ আছড়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফিলিপাইনের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া ও ভূপদার্থবিজ্ঞান সংস্থাও তাদের সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলের নাগরিকদের জন্য সুনামি সতর্কতা জারি করেছে এবং জেলেদের সাগরে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে।

আন্তর্জাতিক মহলেও এই ভূমিকম্পের সুনামি ঝুঁকি নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থাও (US Tsunami Warning System) প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এই ভূমিকম্পের পর সুনামির মারাত্মক ঝুঁকির সতর্কতা জারি করেছে। উপকূলবর্তী অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষকে দ্রুত নিরাপদ ও উঁচু স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে ফিলিপাইন সরকার। উপকূলীয় অঞ্চলে সাইরেন বাজিয়ে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করা হচ্ছে, যার ফলে পুরো মিন্দানাও দ্বীপজুড়ে এক হৃদয়বিদারক ও আতঙ্কজনক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনী ও রেড ক্রসের শত শত কর্মী উদ্ধারকাজে যোগ দিয়েছেন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
১০১১১২১৩১৪
১৫১৬১৭১৮১৯২০২১
২২২৩২৪২৫২৬২৭২৮
২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট